১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালতের
প্রায় ২৪ বছর আগে কিশোরগঞ্জের বড়বাজারে একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুজনকে হত্যার ঘটনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।
পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজাও বিভিন্ন মেয়াদে নির্ধারণ করা হয়। ওই রায়ে নুর মোহাম্মদের সাজা কমে ১০ বছর হয়।
মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর নুর মোহাম্মদের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সল আহমেদ।
শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ কারণে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়।
তবে আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com