ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৯:০৯ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

‘বান্ধবীকে’ বিয়ের আশায় নারী থেকে পুরুষ হওয়ার চেষ্টা, অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৯:০৯ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোজি আক্তার লিজা

নিউজ ডেস্ক :

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে স্তন অপারেশন করানোর কয়েক ঘণ্টা পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার (রব রাজ) এর মেয়ে।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে লিজার অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওইদিন বিকেলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো পোশাক-আচরণ পছন্দ করতেন এবং চুলও ছেলেদের মতো করে কাটতেন। জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামে যাত্রাবাড়ীর এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জেনিফা দীর্ঘ সময় লিজাদের বাড়িতে অবস্থান করতেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান।

জেনিফা জানান, তারা পরস্পরের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। স্তন অপারেশনের জন্য লিজার মা, বাবা ও বোন মিলে দেড় লাখ টাকা দেন বলে দাবি করেন তিনি।

জেনিফার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে লিজার বাবা-মায়ের সম্মতি ছিল বলেও দাবি করেন জেনিফা।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার এ বিষয়ে ভিন্ন কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জেনিফা যে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন এবং সেই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও মৃত্যুর দিন জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

আব্দুর রব বলেন, লিজা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা তিনি মেয়ের মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন।

লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলের প্রতি আগ্রহ দেখাতেন না। তাকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক বা সংসার করার বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল না বলেও জানান তিনি।

ফজিলা বেগম আরও বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। সে কারণেই মেয়ের চিকিৎসা ও অপারেশনের বিষয়টি তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ ‘পুরুষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এরপর চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com