ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০২:৪১ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

জর্দার কৌটায় রাখা ২ লাখ টাকা পচে নষ্ট, নিঃস্ব মনোয়ারা

প্রকাশিত : ০২:৪১ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জর্দার কৌটায় দীর্ঘদিন রেখে পচে-ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া মনোয়ারা বেগমের সঞ্চয়ের টাকা

নিউজ ডেস্ক :

প্রায় এক দশক ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মনোয়ারা বেগম ও তাঁর স্বামী জিয়া উদ্দীন। সংসারের খরচ মেটানোর পর কখনো খুচরা, কখনো এক হাজার টাকার নোট জমিয়ে তাঁদের সঞ্চয় দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ টাকা। নিরাপদ মনে করে সেই টাকা একটি জর্দার কৌটায় রেখে দিয়েছিলেন মনোয়ারা।

তবে প্রয়োজনের সময় সেই সঞ্চয় বের করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়ে তাঁর। দীর্ঘদিন কৌটায় পড়ে থাকায় টাকাগুলো পচে-ঝাঁঝরা হয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ১০ বছরের কষ্টের সঞ্চয়ই এখন তাঁর কাছে মূল্যহীন।

মনোয়ারা বেগম নালিতাবাড়ী পৌরশহরের পুরাতন জেলখানা রোড-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিন মাস আগে তাঁর স্বামী জিয়া উদ্দীন মারা যান। এর মধ্যে অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে জীবিকার পথও প্রায় বন্ধ। এমন অবস্থায় শেষ সম্বলটুকু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোয়ারা ভোগাই নদী থেকে বালু-পাথর তুলে বিক্রি করে সংসারে সহযোগিতা করতেন। তাঁর স্বামী জিয়া উদ্দীন ছিলেন মিষ্টি তৈরির কারিগর। দুজনের কষ্টের আয়ে চলত তাঁদের সংসার। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেখান থেকেই প্রায় ১০ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছিলেন তাঁরা।

প্রায় আট মাস আগে তাঁদের সঞ্চয় ২ লাখ টাকায় পৌঁছায়। নিরাপদ মনে করে টাকাগুলো একটি জর্দার কৌটায় রেখে দেন মনোয়ারা।

এরপর তিন মাস আগে স্বামীর মৃত্যু হলে তাঁর জীবনে নেমে আসে আরও কঠিন সময়। একই সময়ে ভোগাই নদীতে আগের মতো পাথর না থাকায় তাঁর সেই কাজ থেকেও আয় বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে জমানো টাকা বের করতে গিয়ে দেখেন, কৌটির মুখ খুলছে না। পরে কৌটার মুখ কেটে টাকা বের করলে দেখতে পান, ভেতরের নোটগুলো পচে-ঝাঁঝরা হয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মারা গেছেন তিন মাস আগে। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আগে ভোগাই নদী থেকে পাথর তুলে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এখন নদীতে পাথরও নেই। স্বামী নেই, কাজও নেই—এ অবস্থায় শেষ সম্বলটুকুও নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিপদের সময় কাজে লাগবে ভেবে ১০ বছর ধরে একটু একটু করে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই টাকা আর কোনো কাজে লাগল না। এখন কী করবেন, সেটিই বুঝতে পারছেন না তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব রহমান বলেন, মনোয়ারা ও তাঁর স্বামী দুজনই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। জিয়ার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে জমানো টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবরটি খুবই কষ্টদায়ক। তাঁর ভাষ্য, মনোয়ারা এখন শুধু কাঁদছেন।

প্রতিবেশী জুমন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন কষ্ট করে জমানো টাকা মনোয়ারার কাছে শুধু অর্থ ছিল না; স্বামীর মৃত্যুর পর সেটিই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, মনোয়ারা বেগমের টাকা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আইনগতভাবে এ বিষয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। তবে মনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com