ঢাকা, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৪:২৭ এএম, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, সাত বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

প্রকাশিত : ০৪:২৭ এএম, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার রায় এখনও কার্যকর হয়নি। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে বিচার শেষ হলেও মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সেখানে মূল আপিলের শুনানি এখনও শুরু হয়নি।

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন আবরার ফাহাদ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৎকালীন কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ওই রাতেই শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ছেলের হত্যার সাত বছর পরও রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বুলু। কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে এখনো ছেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিছানা ও পড়ার টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এসব স্মৃতি আঁকড়ে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ দিন কাটাচ্ছেন।

বরকত উল্লাহ বলেন, আবরার দেশের বিষয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চান তারা। একই সঙ্গে দ্রুত হত্যার রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও নাতি হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। জীবদ্দশায় তিনি রায় কার্যকর হতে দেখে যেতে চান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আবরার হত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। ফলে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে আপিল করেনি, কারণ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায়ই বহাল রেখেছেন।

বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। তবে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এখনও মামলাটি ওঠেনি এবং মূল আপিলের শুনানিও শুরু হয়নি।

এদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই তিনজন পলাতক। তারা হলেন মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

সব মিলিয়ে এ মামলায় দণ্ডিত ২৫ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com