সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দিয়েছে মেডিকেল টিম।
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা কর্মসূচির পর ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে যায়।
সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে মেডিকেল টিমটি শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে তারা সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনা করা শিশুদের পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেন।
মেডিকেল টিমের তথ্যমতে, খতনা করা ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে তারা ভালো আছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনার পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
এর আগে ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিনের একটি অবকাশ রিসোর্টে আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও শিশুদের সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শায়খ মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম অংশ নেয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। কর্মসূচির জন্য মেডিকেল টিমটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে যায়।
তবে খতনার কয়েক দিন পর কিছু শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।
মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, কয়েকজন শিশুর ইনফেকশনের খবর পাওয়ার পর তারা সেন্টমার্টিনে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে।
তার ধারণা, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং কার্যক্রমে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অসচেতনতার কারণে এসব সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।
ডা. নওশাদ আলম কানন আরও বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া জরুরি। নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং করা হলে এ ধরনের জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
তিনি জানান, অসুস্থ শিশুদের অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেন্টমার্টিনেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।
ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন পাওয়া গেছে। চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা ভালো আছে। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সময়মতো ড্রেসিং না করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না দেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম দ্বীপ এলাকায় এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খতনার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com