নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে বসবাসকারী বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি একটি বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় ৭০০ পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বর্তমান জায়গা ছেড়ে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বাসিন্দাদের করা আপিলের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
পুনর্বাসন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাবেক জেলা বিচারক মনমোহন শর্মার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে আদালত। আগামী ছয় মাস এই কমিটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং সরকার বস্তিবাসীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করবে।
এ ছাড়া বাসিন্দাদের মালপত্র নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরে সহযোগিতা করতে দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে (ডিইউএসআইবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান বস্তি থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরায় স্থানান্তরের বিরোধিতা করেছিলেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নতুন এলাকায় গেলে জীবিকা সংকটে পড়তে হবে। কারণ, অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমান আবাসস্থলের আশপাশে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নতুন এলাকায় স্কুলসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, বস্তিটি একটি সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্ছেদ প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে স্পর্শকাতর এলাকায় অননুমোদিত স্থাপনা জননিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হয়।
সরকার গত বছরের অক্টোবর থেকেই ওই এলাকার উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। পরে গত মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে বস্তিটির সব বাসিন্দাকে পুনর্বাসনের যোগ্য হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুনর্বাসন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি পরিবারকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে একটি মেট্রো কার্ড দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ডটির মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধাও দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বস্তিটি মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com