শিক্ষার্থীদের উপহার দেওয়া ফ্রিজ বাসায় নিয়ে ব্যবহারের অভিযোগ বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে
জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপহার দেওয়া একটি ফ্রিজ নিজ বাসায় নিয়ে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলীর বিরুদ্ধে। কলেজের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীরও ফ্রিজটি বাসায় নেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিভাগকে একটি মিনি ফ্রিজ উপহার দেন। ওয়ালটন কোম্পানির ওই ফ্রিজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৯০ লিটার।
ফ্রিজটি গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অফিসকক্ষে রাখা ছিল। বিভাগের শিক্ষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করতেন।
তবে প্রায় এক মাস আগে নিজের বাসার ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলী ফ্রিজটি বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে গণিত বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ফ্রিজটি যেখানে রাখা ছিল সেখানে একটি চেয়ার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজের বৈদ্যুতিক সংযোগের স্থানটিও ফাঁকা রয়েছে।
বিভাগীয় প্রধানের এমন কর্মকাণ্ডে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদায়বেলায় স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য শিক্ষার্থীরা নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে ফ্রিজটি কিনেছিলেন। সেটি যদি কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাসায় নিয়ে যান, তাহলে উপহার দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পরীক্ষায় নম্বর কমে যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের আশঙ্কায় তারা সরাসরি শিক্ষকদের কাছে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
কলেজের আরেক শিক্ষকও ফ্রিজ বাসায় নেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কলেজের কোনো সম্পদ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাসায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের এ ধরনের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফ্রিজটি বাসায় নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, তার পরিবার ঢাকায় থাকে। আর তিনি জামালপুরের পশ্চিম নয়াপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকেন। ঢাকা থেকে তার মেয়ে পাঠানো খাবার সংরক্ষণের জন্য এবং বিভাগে ফ্রিজটির তেমন ব্যবহার না থাকায় সেটি বাসায় নিয়ে গেছেন।
ফ্রিজটির প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত লোভ নেই দাবি করে আব্বাছ আলী বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে তিনি এখনই সেটি বিভাগে ফেরত দিয়ে দেবেন।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কলেজ থেকে আরও অনেক কিছু নিয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। সেসব বিষয়ে নজর না দিয়ে একটি ছোট বিষয়কে বড় করে দেখা হচ্ছে।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর বলেন, ফ্রিজটি বাসায় নেওয়ার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এর আগে কেউ তাকে বিষয়টি অবহিতও করেননি।
বিভাগ থেকে কলেজের ফ্রিজ নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেও সঠিক হয়নি উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি দ্রুত ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com