মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে তেলের দাম। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের তীব্রতা এবং সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ের পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এই সীমা অতিক্রম করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমে তা ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম নতুন করে বাড়তে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়। তেহরানের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, চারটি ট্যাংকার ওমান উপসাগরে এবং একটি খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল।
এরপর ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। তবে মার্কিন সেন্টকমের দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবেও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদির আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগায় সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের বড় প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলেও। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার ছিল, সংঘাতের কারণে তা দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পেট্রলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ সংকট তীব্র হয়ে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান মার্কিন নৌযানে হামলা চালালে বা হামলার চেষ্টা করলে তাদের তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে তারা একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দ করেছে। তবে মার্কিন সেন্টকমের দাবি, সেটি আগের দিনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এটিকে পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন বলে জানিয়েছে এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সোনার-রাডার সরঞ্জাম ছিল না বলে দাবি করেছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com