ধ্বংসস্তূপের মাঝেই মাটির ইট ও পরিত্যক্ত কাঠ দিয়ে ঘর বানাচ্ছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা
ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকায় নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের মধ্যেও মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। মাটির তৈরি ইট, পরিত্যক্ত কাঠ, কাপড় ও প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপরই তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী ঘর।
টানা বোমাবর্ষণে বহু এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে ভাঙা কংক্রিটের ওপর বসবাস করতে হচ্ছে। কেউ হাতে তৈরি মাটির ইট দিয়ে দেয়াল তুলছেন, আবার কেউ ধ্বংস হওয়া ভবনের কাঠ সংগ্রহ করে নতুন কাঠামো দাঁড় করাচ্ছেন। এসব ঘর গরম, বৃষ্টি কিংবা শীত থেকে খুব বেশি সুরক্ষা দিতে না পারলেও তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকা বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর তুলনায় এগুলোই অনেকের কাছে একমাত্র আশ্রয়।
গাজার সরকারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে আবাসন ও অবকাঠামো ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের হিসাবে, চলমান সংঘাতে ২১ হাজার ৫০০ শিশুসহ অন্তত ৭৩ হাজার ৬৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে গাজায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এর মাত্র প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার টন সরানো সম্ভব হয়েছে, যা মোট ধ্বংসাবশেষের ০.৫ শতাংশেরও কম।
বর্তমান গতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ চলতে থাকলে পুরো গাজা থেকে তা সরাতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধ্বংসস্তূপই এখন অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের নতুন আশ্রয়ের ভিত্তি হয়ে উঠছে।
মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন এলাকায় তরুণেরা নিজেরাই মাটি দিয়ে ইট তৈরি করছেন। ২৬ বছর বয়সী খলিল আবু রমজান ও ৩১ বছর বয়সী খলিল আবু দিবের মতো অনেকেই কোনো আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ছাড়াই ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন।
গাজা সিটিতে আবার কাঠমিস্ত্রি আলা জৌদের মতো কর্মীরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির পাশে কাঠ কেটে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করছেন। কেউ কেউ কাপড় ও প্লাস্টিক ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটও মেরামত করছেন।
ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও এভাবে নিজেদের থাকার জায়গা ও জীবিকার পরিসর ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন গাজার বাসিন্দারা। তবে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ও অবকাঠামোর অভাবে তাদের এই পুনর্গঠন প্রচেষ্টা অত্যন্ত সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র: আলজাজিরা
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com