শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) লিফটে ওঠার সময় এক শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটির জেরে রাতে হল প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে জড়ান কয়েকজন শিক্ষার্থী। এতে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে দুপুরের ঘটনা নিয়ে আবারও উত্তেজনা তৈরি হলে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২১ ব্যাচের হোসাইন শরীফ এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে লিফটে ওঠার সময় রাতুল হোসাইন শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
রাতুলের অভিযোগ, ওই সময় তিনি ক্লান্ত থাকায় প্রচলিতভাবে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করেছিলেন। এতে শরীফ তার পরিচয় জানতে চান এবং লিফটে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা দেন। পরে রাতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন রাতুল।
অন্যদিকে হোসাইন শরীফের দাবি, রাতে রাতুলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তারা তাকে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করার সময় তার হাত লেগে রাতুলের কপাল কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
শরীফ আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তাকে গালাগাল, ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে সোপর্দ এবং মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে জিব্রাইল শরীফের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, শেরেবাংলা হলের সামনে অবস্থানের সময় ভেতর থেকে হইচই শুনে সেখানে যান। গিয়ে জানতে পারেন, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে।
জিব্রাইলের ভাষ্য, বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি শরীফ ও তার ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলের গেস্টরুমে বসতে চেয়েছিলেন। এ সময় ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী অনিমেশ রায় বিষয়টি তার ব্যাচের অন্যদের জানালে কয়েকজন এসে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঘটনার একপর্যায়ে জিব্রাইল শরীফ, মোহাইমিনুল ইসলাম ও হামিদুর রহমান হিমেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে জিব্রাইলের সঙ্গে ২১ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতাহাতি হয়।
এদিকে ঘটনার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলে গিয়ে জিব্রাইল শরীফের কক্ষ ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আফরান আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ব্যাচভিত্তিক বিরোধ বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পরদিন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com