জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিদ্রোহী ও সাম্যের এই কবি।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় নজরুলের কবিতা ও গান মুক্তিকামী মানুষকে সাহস, অনুপ্রেরণা ও প্রতিবাদের শক্তি জুগিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তার সৃষ্টিকর্ম মানুষের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। যুগে যুগে অধিকারবঞ্চিত মানুষকে তার সাহিত্য প্রতিবাদে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তিনি একই সঙ্গে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা ছিলেন। অসংখ্য রাগ-রাগিণী ও গান সৃষ্টি করে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।
নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মতে, নজরুল ছিলেন ইতিহাস ও সময়সচেতন একজন সাহিত্যিক। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাব তার সাহিত্যকর্মে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি মুসলমান সমাজকে পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাবা কাজী ফকির আহমেদ এবং মা জাহেদা খাতুন।
প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও জাগরণের কবি নজরুলের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষকে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনেও তার সৃষ্টিকর্ম ছিল প্রতিবাদের অন্যতম শক্তি।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ নজরুলের লেখনী বাঙালির জাতীয় জীবনে সাম্য ও মানবিকতার চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার কবিতা ও গান এখনও মানুষকে শোষণ, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগায়।
জাতীয় কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লায়ও ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশনা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা হামদ-নাত পরিবেশন করবেন এবং ইনস্টিটিউটের আবৃত্তি বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা আবৃত্তি পরিবেশন করবেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com