চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান।
চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আট অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ২০টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১০টি বিমানবাহিনীর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে। অন্য ১০টি দিয়ে নতুন একটি স্কোয়াড্রন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।
সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো বিমানবাহিনীর চিঠিতে যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের খরচ তুলে ধরা হয়। একটি জে-১০সিই বিমানের দাম ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে প্রতিটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৭১ কোটি টাকা।
২০টি যুদ্ধবিমানের মূল দাম প্রায় ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর পাশাপাশি পাইলট ও সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ, পরিচালন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ছয়টি জে-১০সিই বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি ১৪টি বিমান সরবরাহ করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত ক্রয় কার্যক্রম চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই চুক্তির অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম সংগ্রহের বিষয়েও কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।
জে-১০ ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য গঠিত কমিটি দরকষাকষির বৈঠকের ভিত্তিতে একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছে। পরে সেটি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
চুক্তি চূড়ান্ত হলে বিমানবাহিনীতে নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ফিল্ড ইউনিট ও বিমানঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানবাহিনীর কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
নথিতে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে অথবা চীনের সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমান নির্মাতা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিমানগুলো কেনা হতে পারে।
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা কিছু যুদ্ধবিমান পুরোনো হওয়ায় আধুনিক প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের ব্যবহৃত জে-১০সিই যুদ্ধবিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। এরপর বিমানটির সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে দরকষাকষির জন্য সরকারের কমিটি ইতোমধ্যে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com