ঢাকা, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ১২:৫৩ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক

প্রকাশিত : ১২:৫৩ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইস্পাত, আসবাবপত্র, তাজা টুনা মাছ ও কটন টি-শার্টসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডা সরকার জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি কানাডিয়ান ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যে এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, পাল্টা ব্যবস্থার তালিকাও সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন শুল্কের প্রভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য বাছাই করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়। আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ও অটোয়া একে অপরকে দায়ী করেছে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব কানাডার শ্রমিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কমিউনিটির ওপর পড়বে। এ কারণেই পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

কানাডার পাল্টা শুল্ককে ‘কৌশলগত’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে শ্যাম্পেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৭৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে। কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

দুই দেশের মধ্যে নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়ায় উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সরবরাহব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে কানাডীয়দের বড় অংশের সমর্থনের কথা উঠে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনা ঠিক কোন কারণে ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে কানাডায় এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

ট্রাম্পের পাল্টা অভিযোগ

কানাডার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় কানাডাকে অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে সুবিধাজনক বাজার সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে কানাডা সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে অযৌক্তিক অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্টে কানাডার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে এবং মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপরও উচ্চ শুল্ক আরোপ করছে।

এ সময় কানাডাকে নিয়ে আরও কঠোর মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি সীমান্তবর্তী গ্রেট লেকসের লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

এর আগে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর মার্কিন শুল্ক আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের লক্ষ্য কানাডার শিল্পখাতকে দুর্বল করা। বিশেষ করে গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা

দুই দেশের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরদিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা কূটনৈতিক সুর দেখা গেছে। ফলে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও প্রথমে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করলেও পরে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহের কথা জানান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশের জনগণের জন্যই লাভজনক একটি চুক্তি হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান ইউএসএমসিএ মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে কানাডার সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম দেশটির অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ডকে জরুরি আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com