সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক সাকিল লিখিত বক্তব্য বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে আমার বাবা মো. শাহাবুদ্দিনকে সন্ধ্যা ৭টার সময় পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, হাতিয়ার সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মোহাম্মদ আলীর ক্যাডার আবুল কালাম আমার বাবাকে একটি মামলায় আসামি করেন। আবুল কালাম ২০১৮ সালের একটি ঘটনাকে টেনে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর আমার বাবাকে ৩২ নাম্বার আসামি করে মামলা করেন। যা একটি মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমরা এতদিন ধরে এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। তাছাড়া আবুল কালাম মামলার মধ্যে আমার বাবার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও উল্লেখ করতে পারেনি। মামলায় ৩৩ জন আসামির মধ্যে আমার বাবাকে ৩২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাদী আবুল কালাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর ক্যাডার বাহিনী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীকের প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করেছে। সে সমস্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। তার অত্যাচারে এলাকার বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ ছিল। সেই লোক এখন বিএনপি সেজে টাকার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে। নিজেকে নব্য বিএনপি নেতা দাবি করছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে কয়েকটি মামলার বাদি হয়ে তিনি এখন বাণিজ্য শুরু করেছেন। এই আবুল কালাম আমার বাবাসহ বহু নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এর সঙ্গে একজন আইনজীবী জড়িত আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এছাড়াও আতাউর রহমান রাফি নামের একজন ছাত্র লীগ নেতাও জড়িত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের এই সদস্য বলেন, হাতিয়া বুড়িরচর ইউনিয়ন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতাউর রহমান রাফিসহ নামে বেনামে আমাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। যে পরিমাণ টাকা আমাদের কাছে নেই। টাকা দিলে তারা মামলা উঠিয়ে নিবে এমন কথা জানায়। এতে বোঝা যায় সুপরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার বাবা অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন। দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। এলাকায় আমার বাবার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমলে হাতিয়া উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল এই রাফি। একসময় সে চাঁদাবাজি করে বিএনপি ও নিরীহ লোকদের হয়রানি করেছে। রাফিদের একটি পারিবারিক ঘটনায় আমার বাবাকে তাদের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষী দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। আমরা যতটুকু বুঝতে পারি, তাতে আমার বাবা রাজি না হওয়ায় রাফির বাবা আইনজীবী হওয়ার সুবাদে আমার বাবাকে এই মিথ্যা মামলায় আসামি করে দেয়া হয়। তাছাড়া আমি এলাকার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে একটু সোচ্চার থাকায় তারা আমার উপরও ক্ষুব্ধ। আমার ধারণা, সে কারণেও আমার বাবাকে হয়রানি করা হতে পারে।
তিনি বলেন, আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করব, এই মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়। আমার বাবাসহ যারা অপরাধ না করেও মামলার আসামি হয়েছেন, তাদের নাম এই মামলা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।