মাকে আন্টি বলে ডাকতো, শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা
প্রকাশিত : ০৪:১৬ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশু সন্তান আশরাফুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জন্মদাত্রী মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে ওই নারীর আগের সংসারের আরও এক কন্যাসন্তান মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর অভিযুক্ত মাকে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ৮ বছরের শিশু সিদরাতুলকে পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গৃহকর্তা শাহীন মিয়া প্রায় তিন দশক আগে প্রথম বিয়ে করলেও সেই সংসারে কোনো সন্তান হয়নি। পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বিশেষ উদ্যোগে তিনি আকলিমা বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন। তাঁদের ঘরেই জন্ম নেয় শিশু আশরাফুল। আকলিমা ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় অধিকাংশ সময় পরিবারের বাইরে অবস্থান করতেন। ফলে শিশু আশরাফুলকে শৈশব থেকেই পরম স্নেহে আগলে রেখে লালন-পালন করছিলেন প্রথম স্ত্রী নাসিমা। সেই সূত্রে শিশুটি প্রথম স্ত্রীকে ‘বড়মা’ এবং নিজের গর্ভধারিণী মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকত।
এলাকাবাসীর একাংশের ধারণা, নিজের ঔরসজাত সন্তান অন্যকে মা ডেকে তাকে 'আন্টি' সম্বোধন করায় আকলিমার মনে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আক্ষেপ বা ক্ষোভের জন্ম হয়ে থাকতে পারে। তবে স্বজনদের দাবি, দম্পতির মধ্যে দৃশ্যমান কোনো বিরোধ বা পারিবারিক মনোমালিন্য ছিল না। ফলে এই নারকীয় হামলার আসল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, যা পুলিশি অনুসন্ধানের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সন্তানহারা পিতা শাহীন মিয়া আকুল কণ্ঠে জানান, দীর্ঘ ৩০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি এক কন্যাসন্তানের পর পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই কোল আলো করা সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এমন নির্মমভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং আগের সংসারের মেয়েটাকেও কুপিয়ে আশঙ্কাজনক করেছে। তিনি এই পাশবিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। ঘটনার পরপরই আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত নারীকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। কোমলমতি শিশুর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।