মঠবাড়িয়ায় মারধরের অভিযোগ ওঠা বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় নির্বাচনী ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খলিলুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত খলিলুর রহমান বর্তমানে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন বেতমোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নেওয়া খলিলুর রহমান কয়েকটি ব্যানার গাছে টানিয়েছিলেন। ব্যানার খোলা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক ও সদস্যসচিব তারেকুজ্জামানের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে প্রশাসনের সহায়তায় খলিলুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় খোকন মল্লিক ও তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য পাশের একটি দোকানে ঢুকলেও সেখানেও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে পাঠানো হয়।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছবি সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার টানানো হয়েছিল। তার দাবি, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক ও সদস্যসচিব তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে জিল্লুর নাজীর, আমীর মল্লিকসহ ১০-১৫ জন তার ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ওপর হামলা করা হয়। ঘটনায় তিনি ও তার সঙ্গে থাকা আরেকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকন মল্লিক। তিনি বলেন, খলিলুর রহমানের ওপর হামলার খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আবুবকর সিদ্দিক বাদলসহ তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার ভাষ্য, শুধু একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। স্থানীয়ভাবে তারা জানতে পেরেছেন, খলিলুর রহমানের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জেরেও হামলা হয়ে থাকতে পারে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, তিনি এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না। তবে ছাত্রদলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমতও ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আহত ব্যক্তি অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com