ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত : ০৮:০১ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
Digital Solutions Ltd

গুম বন্ধে র‌্যাব বিলুপ্তিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর জবাবদিহির সুপারিশ কমিশনের

প্রকাশিত : ০৮:০১ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

গুলশানে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কমিশনের সভাপতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্থায়ী অবসান ঘটাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তিসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। এ লক্ষ্যে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে কমিশন।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুম ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে র‌্যাব বিলুপ্ত করা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধনসহ একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

কমিশনের সুপারিশের মধ্যে আরও রয়েছে—সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কার্যকর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাহিনীগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ চালু, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং গুমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর।

কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোট গুমের অভিযোগের প্রায় ২৫ শতাংশে র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ ঘটনায় জড়িত। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ঘটনায় সাদাপোশাকধারী ব্যক্তি বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণের তথ্য মিলেছে। কমিশনের মতে, অভিযোগগুলোর ধরন বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, গুম ছিল বিচ্ছিন্ন কোনো অপকর্ম নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে সংঘটিত হয়েছে।

কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-এর ধারা ১০ অনুযায়ী, ফিরে না আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য কয়েক ধাপে একাধিক অভিযোগ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুই থেকে পাঁচ দিনের গুমের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে অগ্রগতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনে মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে একাধিকবার দাখিল হওয়া ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে গুমের সংজ্ঞার বাইরে থাকা ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় নেয়া হয়, যার মধ্যে ২৫১ জন গুমের শিকার এবং ৩৬ জনের ক্ষেত্রে গুমের পর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ধারণে কমিশন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সাক্ষীসহ মোট ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি ৭৬৫ জন গুমের শিকার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন করা ব্যক্তিদের তথ্য সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বিজিবি সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হলেও তাতে গুমের শিকার কারও নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন করার একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

কমিশন আরও জানায়, নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, পিক-আপ প্লেস, আয়নাঘর ও ডাম্পিং প্লেস পরিদর্শন করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের একটি কবরস্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে গুমের শিকারদের দাফনের তথ্য মিলেছে। বরিশালের বলেশ্বর নদী ও বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং প্লেসের অস্তিত্বও শনাক্ত হয়েছে।

বরিশালে দুটি মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ ডাটাবেজ গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে।

কমিশনের সভাপতি জানান, গুমের শিকার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভাগীয় পরামর্শ সভা, তিন শতাধিক বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য কর্মশালা, একাধিক প্রেস ব্রিফিং এবং গুম বিষয়ক এক ঘণ্টার প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনগুলো কমিশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com