ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে জাজিরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমেছে উপস্থিতি

প্রকাশিত : ০৩:৩৪ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে শরীয়তপুরের জাজিরার আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নিউজ ডেস্ক :

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীভাঙনের আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের টিন ও বেড়া খুলে রাখা হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিছু আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

ঝুঁকিতে পড়া বিদ্যালয়টি হলো জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খাঁনকান্দি গ্রামের ১২২ নম্বর আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত আলম খাঁনকান্দি গ্রামের চারপাশেই নদী। এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় ২০১৭ সালে সেখানে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁর নামেই বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।

বিদ্যালয়টি স্থাপনের সময় পদ্মা নদী ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। কিন্তু গত দুই বছরে ওই এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। চলতি বছরেই নদী প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর দিকে এগিয়ে এসে বিদ্যালয়ের মাঠের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিদ্যালয়টিতে পাকা মেঝের একটি টিনশেড ভবনের পাঁচটি কক্ষে পাঠদান চলে। নদীভাঙনের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ ভবনের টিন ও বেড়া খুলে রেখেছেন। কিছু মালামালও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই খোলা ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তবে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। বিদ্যালয়ের আশপাশের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। এর ফলে অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী আট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদ জানায়, নদীভাঙনের কারণে এখন বিদ্যালয়ে আসতে তাদের ভয় লাগে। যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। বিদ্যালয়টি ভেঙে গেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবে, তা নিয়েও চিন্তিত তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান বলেন, চলতি বছর ভাঙন সবচেয়ে বেশি হয়েছে। গত দুই মাসে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে এসেছে। প্রতিদিনই বিদ্যালয়টি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ভাঙনের আশঙ্কায় কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এলাকাটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, চলতি বছর আলম খাঁনকান্দি এলাকায় অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। এসব পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের বেড়া খুলে রাখা হয়েছে এবং সরিয়ে নেওয়া মালামাল এক জায়গায় রাখা হয়েছে। খোলা ঘরের দুটি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পড়াচ্ছেন দুজন শিক্ষক। পাশের আরেকটি কক্ষে কয়েকজন শিশুকে পাঠদান করছেন একজন শিক্ষক। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, পদ্মার তীরবর্তী বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে, তবে এখনো বিকল্প জমি পাওয়া যায়নি। নদীভাঙনের শিকার হলেও যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com