কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাও। না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’—বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে এটাই ছিল জান্নাতুত তাজমীনের শেষ কথা। সেই ফোনের কয়েক ঘণ্টা পর কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের চার দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুত তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জান্নাতুত তাজমীন রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে সে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।
পথে রাতে বাবাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমীন জানায়, দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও বাবাকে জানায় সে। তবে কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
এরপর আবদুল আলীম মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও আর সাড়া পাননি। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাতেই মেয়ের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন আবদুল আলীম।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানক্ষেতে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আবদুল আলীম বলেন, রাতে মেয়েটি ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে, তা বলতে পারেনি। সকালে থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে হয়েছে।
ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, তাজমীন ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত এবং হাজিরা খাতায় তার রোল নম্বর ছিল ৩০। তবে গত মার্চ থেকে সে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com