ঢাকা, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৩:৫৭ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

সৌদিতে মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট শ্রীলঙ্কান তরুণের মৃত্যুদণ্ড; ক্ষমার আহ্বান পরিবারের

প্রকাশিত : ০৩:৫৭ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখে শ্রীলঙ্কার তরুণ আনোজন শিবরাসা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

‘আমার ছেলের করা ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাই। দয়া করে তাকে ক্ষমা করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন’—অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে এমন আকুতি জানিয়েছেন রসমানিক্কাম যোগালক্ষ্মী। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে আনোজন শিবরাসা সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন।

ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে আনোজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে অনলাইন বিতর্ক থেকে। জুনের শেষ দিকে তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে থাকা একটি কুকুরকে এক তরুণ মুসলিম ব্যক্তি লাথি মারছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়।

এরই মধ্যে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে আনোজন তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ওই মন্তব্য মুছে দিয়ে ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান আনোজন। তবে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট তার কর্মস্থল ও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এরপর জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সৌদি কর্মকর্তারা তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আনোজনের ভাই হামসিদান শিবরাসা বিবিসি সিংহলাকে জানান, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করে বিষয়টি জানান। পরে কর্মস্থল থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে আনোজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড

প্রথমে সৌদি আরবের আল-আহসা ফৌজদারি আদালত আনোজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন।

এই সাজা কমানোর আবেদন করে আনোজনের পক্ষে আপিল করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।

এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সৌদি প্রসিকিউটররা সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের অধীনে আনোজনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার আবেদন করেন। আপিল আদালত সেই আবেদন অনুমোদন করেন। এর ফলে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো আনোজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি।

ক্ষমার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা

আনোজনকে বাঁচাতে শ্রীলঙ্কা সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাকে সহায়তার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর আনোজনের পরিবারের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

আনোজনের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন ধর্মের নেতারাও উদ্যোগ নিয়েছেন। বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারা প্রেসিডেন্সিয়াল সেক্রেটারিয়েটে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ছাড়া আনোজনের স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে শ্রীলঙ্কার চার সদস্যের একটি আইনজীবী দল সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির সদস্য প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপ্পেরুমা জানিয়েছেন, তারা সৌদিতে আনোজনের মামলা পরিচালনাকারী দুই আইন প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

এদিকে আনোজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। তার ভাই হামসিদান জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তারা আনোজনের কাছ থেকে কোনো ফোন পাননি। বিষয়টি সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকে জানানো হলেও এখনো তারা কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

সৌদি আরবের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের সাধারণত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। কারা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মৃত্যুদণ্ডের নজির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা বক্তব্যের কারণে সৌদি আরবে কঠোর সাজা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আগে থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরবের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা আলকিউএসটি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এক কোটিরও বেশি বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ভাষাগত বাধা ও পর্যাপ্ত আইনি সহায়তার অভাবে দেশটির আইনি ব্যবস্থায় অভিবাসী শ্রমিকরা বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

সৌদি আরবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও মাদক ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা বেশি দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com