ডেঙ্গুর প্রকোপে চাহিদা বাড়ায় ঢাকার বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ফলের দাম।
ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে ঢাকার বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ফলের চাহিদা। এর প্রভাব পড়েছে দামে। আমদানি করা মাল্টা, কমলা, ডালিম, আপেল ও আঙুরের পাশাপাশি দেশীয় ফলের দামও চড়া। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফল ও তরল খাবারের চাহিদা বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে দাম আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার দুপুরে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর এলাকার একটি ফুটপাতের দোকান থেকে মাল্টা কিনতে যান মো. জাহাঙ্গীর। তার এক স্বজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় ফলটি কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। দোকানি প্রতি কেজি মাল্টার দাম চান ৪৫০ টাকা। পাঁচটি তুলনামূলক বড় মাল্টা কিনে দেখা যায়, ওজন এক কেজির কিছু বেশি। এতে প্রতিটি মাল্টার দাম পড়ে প্রায় ১০০ টাকা।
জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, ফলের দাম এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকায়। আকার ও মানভেদে ডালিম ও বেদানার দাম ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। আপেল ৩৮০ থেকে ৫২০ টাকা এবং আঙুর ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশীয় ফলের দামও তুলনামূলক বেশি। ভালো মানের পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ১২০ টাকায়। মাঝারি আকারের একটি পেঁপে কিনতেও গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকার বেশি। এ ছাড়া পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া ও সবুজ মাল্টার দামও কম নয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ ডেঙ্গুর কারণে চাহিদা বৃদ্ধি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে মাল্টা, কমলা, ডাবসহ বিভিন্ন ফল ও ফলের রসের চাহিদা বেড়েছে।
ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, রোগের শুরুর দিকে জ্বরের কারণে শরীর থেকে বেশি তরল ও লবণ বেরিয়ে যেতে পারে। এ কারণে রোগীদের ওরস্যালাইন, জুস, ডাবের পানি ও স্যুপের মতো তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে ডাবের দামও বেড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাত ও বাজারে আকারভেদে প্রতিটি ডাব ১৫০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু ডেঙ্গুর কারণে ফলের দাম বাড়েনি। আমদানি করা ফলের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক-কর এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও দীর্ঘদিন ধরে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে ফল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০০ টাকার ফল আমদানিতে শুল্ক-কর বাবদ আরও ১২২ টাকা দিতে হয়। পাশাপাশি ২০২২ সালের তুলনায় ডলারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, ফল আমদানিতে এত বেশি শুল্ক-কর থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, ফলের দাম কমাতে শুল্ক-কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশ থেকে ৩৮ ধরনের ফল আমদানি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফল আমদানির ঋণপত্রে শতভাগ টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক মার্জিনের নিয়ম গত মাসে তুলে নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশে মাল্টা, আপেল, কমলা ও আঙুরসহ চার ধরনের ফল আমদানি হয়েছে ২৩ হাজার ৭১৭ টন। আগস্টে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ১৮৬ টনে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে আমদানি হয়েছে আরও ২৩ হাজার ৫৩৬ টন।
অর্থাৎ আমদানি কম না হলেও বাজারে ফলের দাম কমছে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ ছিল গড়ে ৪৫ গ্রাম। ২০১৬ সালে তা কমে ৩৬ গ্রামে দাঁড়ায়। ২০২২ সালের জরিপে মাথাপিছু ফল গ্রহণ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৪ গ্রামে পৌঁছায়।
তবে ২০২২ সালের পর ফলের দাম বাড়ার কারণে মানুষের ফল খাওয়ার পরিমাণ কমেছে কি না, সে বিষয়ে সাম্প্রতিক কোনো হিসাব নেই।
আহসান এইচ মনসুরের মতে, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পুষ্টির জন্য ফল গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফলের দাম রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com