ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০১:১৬ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

নবম পে স্কেলে সর্বোচ্চ ১৪২% বেতন বৃদ্ধি, বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০১:১৬ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার।

নিউজ ডেস্ক :

নবম পে স্কেলে সর্বোচ্চ ১৪২% বেতন বৃদ্ধি, বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা

জ্বালানি সংকট, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা ও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে বেসরকারি খাত যখন সংকটে, তখন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে সব ভাতা একযোগে কার্যকর হলে বছরে বেতন-ভাতায় সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। এই অর্থ গত অর্থবছরে সরকারের আহরিত রাজস্বের প্রায় অর্ধেক।

নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ১০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ। ২০০৯ সালের তুলনায় এই গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ শতাংশ।

মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ভাতা পাবেন। বাড়িভাড়া ভাতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সব ভাতা যুক্ত হলে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মীর মোট বেতন প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে যোগ দেন। ২০০৯ সালে এই গ্রেডের মূল বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। ২০১৫ সালে তা দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার টাকা হয়। নতুন কাঠামোয় ৯ম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এই গ্রেডে মূলত সচিবরা রয়েছেন। ২০০৯ সালে গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ছিল ৪০ হাজার টাকা।

তিন ধাপে মূল বেতন, ২০২৮ সালে কার্যকর হবে ভাতা

নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত তিন ধাপে কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সব ভাতা একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় গত জুলাই থেকে অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীরাও পেনশন সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে।

পেনশনেও বড় পরিবর্তন

নতুন কাঠামোয় পুরোনো পেনশনভোগীদের জন্যও সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ এবং ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ৬০ শতাংশ বাড়বে। ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। আগে ৫ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তারা মোবাইল ফোন ভাতা পেলেও নতুন কাঠামোয় সব সরকারি চাকরিজীবী এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’

নতুন পে স্কেলে সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে সামরিক কর্মকর্তা বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেলে দুই জায়গা থেকে পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এই দ্বৈত সুবিধা বাতিল করা হবে।

তবে ২০১৯ সালের আগের অবসরভোগীদের তথ্য না থাকায় পুরো ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি খাত নিয়ে প্রশ্ন

নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব বেসরকারি খাতেও পড়বে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার নিযুক্ত এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুর রহমানের মতে, ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ার ফলে ভোগ ও সামগ্রিক চাহিদা বাড়তে পারে। তাই মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় খাদ্য, আবাসন, পরিবহনসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাত, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রকল্পভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মীদের আয় অপরিবর্তিত রেখে শুধু সরকারি কর্মচারীদের বড় অঙ্কের বেতন বাড়ানো হলে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আয়বৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য অর্থের সংস্থানও বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে বাজেট ঘাটতির মধ্যে থাকা সরকারের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়বে। তবে চলতি বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য কিছু বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারের রাজস্ব আয়, অর্থায়ন ব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি সেবায় কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com