নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় চলছে উদ্ধার অভিযান।
নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময় যত গড়াবে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমে আসবে।
কান্তিপুরকে জীবন খাদকা নামে এক ব্যক্তি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আশা কমে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করা প্রয়োজন এবং প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধারকাজের ধীরগতিতেও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
দূর থেকে নেপালের উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করছেন অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স। তাঁর মতে, বন্যার ভয়াবহতায় সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসি রেডিও ফোরের ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান’ অনুষ্ঠানে ডিক্স বলেন, সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্তে আগে যে চিহ্নগুলো থাকার কথা ছিল, বন্যার পানির স্রোতে সেগুলোর অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পুরো এলাকাটি তাঁর কাছে চাঁদের পৃষ্ঠের মতো মনে হয়েছে।
তিনি জানান, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা গেলে সেখানে পৌঁছানোর পথ বের করা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাটি খনন এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় পাথর সরিয়ে পথ তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কিছু পাথরের আকার এত বড় যে সেগুলো একটি বাড়ির চেয়েও বিশাল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ ওপরের প্রবল পানির স্রোত থেকে শ্রমিকদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে বলে এখনো আশা করছেন উদ্ধারসংশ্লিষ্টরা।
বন্যায় প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্রও সামনে এসেছে। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, উদ্ধার করা প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলো ভাটির দিকে প্রায় ৩০০ মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর চিতওয়ান জেলায় সেগুলো সাময়িকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শহরের বাইরে একটি জঙ্গলের বড় অংশে অস্থায়ীভাবে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা শনাক্ত না হওয়া মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন।
চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিয়াল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় অস্থায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় ছিল না বলেও জানান তিনি।
নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির পাহাড়ি নদীগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠেছে।
এবারের ভয়াবহ বন্যায় নির্মিত ও নির্মাণাধীন অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কর্মরত ছিলেন।
নিখোঁজ প্রকৌশলী মিলান খারেলের বোন প্রিয়া খারেল এখনো ভাইয়ের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। বন্যার সময় মিলান আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিবিসি নিউজ নেপালিকে প্রিয়া বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে মানুষ ছিলেন। তাই সেনাবাহিনী দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারলে তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এবারের বন্যাকে ‘সাধারণ কোনো ঘটনা নয়’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে।
এদিকে উদ্ধারকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও বিশাল পাথর। সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা ৬০০-এর বেশি শ্রমিকের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে উদ্ধারকারী দল কত দ্রুত তাদের অবস্থানে পৌঁছাতে পারে তার ওপর।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি—এমন দাবি করে অনলাইনে মন্তব্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে সতর্ক করা, জরিমানা ও স্বল্পমেয়াদি আটক থাকতে পারে।
নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য বা গুজব হিসেবে বিবেচিত অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com