ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০১:০৩ এএম, ২১ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার জবাব, ছুড়ল ১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

প্রকাশিত : ০১:০৩ এএম, ২১ আগস্ট ২০২৬

ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার জবাব, ছুড়ল ১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ‘না’, ছুড়ল ১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও শীর্ষ বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া হয়েছে বেশ কঠোর। প্রস্তাবের পরপরই উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শক্ত অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার জন্য উসকানিমূলক ও শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।

চলতি বছরের শেষ দিকে শেনজেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ খুঁজছেন ট্রাম্প বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের এ উদ্যোগকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া সীমিত করার সিদ্ধান্ত কেবল লোক দেখানো পদক্ষেপ। উত্তর কোরিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কিম ইয়ো জং আরও স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই ভালো হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

এর পরপরই পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে এটি পিয়ংইয়ংয়ের সরাসরি প্রতিবাদ এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন করে বৈঠক আয়োজন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার কঠিন কিছু শর্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো জেনি টাউন মনে করেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতিতে পরিবর্তনের মতো বিষয়কে আলোচনার শর্ত হিসেবে সামনে আনতে পারে।

এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কও কিম প্রশাসনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ফলে একতরফা ছাড় দিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা পিয়ংইয়ং অনুভব করছে না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও কঠোর বক্তব্যের পরও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হং মিনের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ মূলত ভবিষ্যৎ আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও নমনীয় অবস্থানে আনতে একটি কৌশল হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ওপর চাপ তৈরি করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের শর্তে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করাই কিম প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com