দুর্গাপূজা সামনে রেখে কলকাতার কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা।
তীব্র বৃষ্টি, মাটির সংকট এবং প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। বাঁশ, কাঠ, দড়ি, রং ও গ্যাসসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়তি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমার দাম বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন শিল্পীরা।
দুর্গাপূজা যত ঘনিয়ে আসছে, কুমোরটুলিতে ততই বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। মৃৎশিল্পী থেকে শুরু করে প্রতিমার সাজসজ্জার কারিগর—সবাই দিন-রাত কাজ করছেন। কিন্তু প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে এ বছর শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
শিল্পীদের অন্যতম বড় সমস্যা মাটি সংগ্রহ। কয়েকদিন আগে মাটি সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বেড়েছে মাটির দাম। শিল্পীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় মাটির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির অন্যান্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টির সমস্যা। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিমার মাটি স্বাভাবিকভাবে শুকাতে পারছে না। ফলে দ্রুত শুকানোর জন্য গ্যাসের আগুন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে জ্বালানি খরচ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নিম্নচাপের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা।
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপ্রতিমা তৈরির ঐতিহ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার কুমোরটুলি। এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৫০টি কর্মশালা বা স্টুডিও রয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়। এসব প্রতিমা কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ও বিদেশেও পাঠানো হয়।
সারা বছর কুমোরটুলিতে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি হয়। এ শিল্পকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপেই শিল্পীদের দক্ষতা ও পরিশ্রম প্রয়োজন। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং এবং সাজসজ্জা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় একটি দুর্গাপ্রতিমা। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়ছে না বলে অভিযোগ শিল্পীদের।
কুমোরটুলির শিল্পী তাপস পাল ও কৃষ্ণ গোপাল পাল জানান, বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ীভাবে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।
দুর্গাপূজার আনন্দকে পূর্ণতা দিতে কুমোরটুলির শিল্পীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যখন কলকাতা সাজছে নতুন রূপে, তখন প্রতিমা নির্মাণের পেছনে থাকা এই শিল্পীদের ভবিষ্যৎ ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com