ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৯:২০ এএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

যুদ্ধ-অনাহারের মধ্যেও সন্তানকে বাঁচাতে লড়ছেন গাজার মায়েরা

প্রকাশিত : ০৯:২০ এএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধ ও খাদ্যসংকটের মধ্যেও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়ছেন গাজার মায়েরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুদ্ধ-অনাহারের মধ্যেও সন্তানকে বাঁচাতে লড়ছেন গাজার মায়েরা

গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা, অবরোধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট, চিকিৎসার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। এমন পরিস্থিতিতেও সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন গাজার মায়েরা।

৩৮ বছর বয়সী ইমান হুনেইদকের গল্প সেই কঠিন বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। নয় মাস বয়সী মেয়ে ওয়ার্দকে নিয়ে ভোরে দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি তাঁবু থেকে হিকর আল-জামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান তিনি। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভোগা ইমান যুদ্ধের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি নিয়েই গর্ভকাল পার করেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া ওয়ার্দকে জন্মের পর ১০ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল।

সন্তান জন্মের পর মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে শারীরিক সমস্যায় পড়েন ইমান। স্তনে ক্ষত তৈরি হলেও অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মেয়ের জন্য ব্যয়বহুল ফর্মুলা দুধের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

আরেক মা ২৩ বছর বয়সী হিবা। যুদ্ধ শুরুর পর তীব্র খাদ্যসংকটে মাত্র ২০ দিন বয়সী মেয়েকে হারান তিনি। বর্তমানে ১৫ জনের সঙ্গে একটি তাঁবুতে বসবাস করে তিন মাস বয়সী ছেলেকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্তন্যপান বিশেষজ্ঞ সাবরিন আল-বোহাইসি ও ইমান আবু ওউদার মতে, বাস্তুচ্যুতি, যুদ্ধজনিত মানসিক চাপ, স্বজন হারানোর বেদনা এবং পর্যাপ্ত খাবারের অভাব মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পুষ্টিকর মাছ, মাংস ও ফলমূলের সংকটে অনেক পরিবারকে ডাল ও শিমের মতো তুলনামূলক সস্তা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁবুতে বসবাসের কারণে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অপরিচ্ছন্নতা, পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব নিয়েও মায়েদের উদ্বেগের শেষ নেই।

এমন পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা মায়েদের স্তন্যপান বিষয়ে পরামর্শের পাশাপাশি মানসিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যেও সন্তানদের সুস্থ রাখতে নিজেদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন গাজার মায়েরা।

সূত্র: আলজাজিরা

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com