ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০১:১০ এএম, ২১ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

রাকসুর ৪২ কর্মসূচিতে ব্যয় ১ কোটি ২৯ লাখ, জমা হয়নি ৬১ লাখ টাকার ভাউচার

প্রকাশিত : ০১:১০ এএম, ২১ আগস্ট ২০২৬

রাকসুর ৪২ কর্মসূচিতে ব্যয় ১ কোটি ২৯ লাখ, জমা হয়নি ৬১ লাখ টাকার ভাউচার

নিউজ ডেস্ক :

 

১০ মাসে রাকসুর ৪২ কর্মসূচিতে ব্যয় ১ কোটি ২৯ লাখ, জমা হয়নি ৬১ লাখের ভাউচার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০ মাসে ৪২টি কর্মসূচি বাস্তবায়নে তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে তিনটি কর্মসূচি এখনো চলমান থাকলেও বাকি কর্মসূচিগুলো শেষ হয়েছে। তবে শেষ হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির বিপরীতে এখনো ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল বা ভাউচার জমা পড়েনি।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় করার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব জমা না পড়ায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জিএস আম্মারের ১৮ লাখ টাকার হিসাব জমা হয়নি

রাকসুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ নিয়েছেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের ভাউচার এখনো জমা দেননি।

এ বিষয়ে জিএস আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য প্রথমদিকে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। তখন ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি জানা ছিল না। ফলে হিসাব সমন্বয় করে বিল প্রস্তুত করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ছাত্র সংসদের সদস্যদের জন্য নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মধ্যে বিজ্ঞান সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ায় ওই বিল জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাকি হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিপি ১৩ লাখের বেশি নিলেও হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৯৯ হাজার টাকার

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার হিসাব জমা পড়েনি।

নথি অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল তিনি দাপ্তরিক খরচ বাবদ দেড় লাখ টাকা নেন। এর হিসাব জমা না দিয়েই ১৯ জুলাই আবার ২ লাখ টাকা দাপ্তরিক খরচ হিসেবে উত্তোলন করেন।

তবে ভিপি মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘একেবারেই কোনো বিল জমা দেওয়া হয়নি, বিষয়টি এমন নয়। দ্রুত দেওয়া ভালো। তবে মেয়াদের মধ্যে জমা দিলেও হবে। আমাদের মেয়াদের এখনো ৬০ দিন বাকি।’

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় ক্রীড়া সম্পাদকের

জিএসের পর রাকসুর তহবিল থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ নিয়েছেন ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন। তিনি সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার ভাউচার জমা পড়েনি।

ক্রীড়া সম্পাদক জানান, গত মাসে শুরু হওয়া ছয়টি কর্মসূচির ‘রাকসু গেমস’ এখনো চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিল জমা দেওয়া হয়নি।

অন্য সম্পাদকদের হিসাবও বকেয়া

বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ছয় ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ভাউচার জমা দিয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হওয়ায় দুটি কর্মসূচির বিল জমা দিতে পারেননি। দ্রুত তা জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংস্কৃতি সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা তিন ধাপে ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উদযাপন বাবদ নেওয়া ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ভাউচার জমা না পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুল সাকিব তিন ধাপে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার সর্বশেষ বাজেটের হিসাব জমা হয়নি। তিনি জানান, সব হিসাব বুঝে নিয়ে দ্রুত বিল জমা দেবেন।

মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলাম তিন ধাপে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৮ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রকাশনার জন্য নেওয়া ১ লাখ টাকার ভাউচার জমা পড়েনি।

মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসা দুই ধাপে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৬ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার হিসাব জমা হয়নি। তিনি দ্রুত তা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা দুই ধাপে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার হিসাব জমা পড়েনি।

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কোনো খাত উল্লেখ না করে ৮২ হাজার টাকা নিয়েছেন। ওই অর্থের কোনো হিসাবও তিনি জমা দেননি।

এজিএস এস এম সালমান সাব্বির গত ৫ মার্চ দাপ্তরিক খরচ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত এর হিসাব জমা দেননি।

নিয়ম মানার তাগিদ কর্তৃপক্ষের

রাকসুর সাবেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, সরকারি অর্থ অগ্রিম নেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয় সমন্বয়ের নিয়ম রয়েছে। একটি বিলের হিসাব সমন্বয় করার পরই পরবর্তী ধাপে অর্থ উত্তোলন করা উচিত।

তার ভাষ্য, আগের বিলের হিসাব সমন্বয় না করেই কোনো সম্পাদক পরবর্তী ধাপে অর্থ উত্তোলন করলে সেখানে আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সম্পাদকীয় পদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ থাকা উচিত এবং সব ব্যয়ের হিসাব রাকসুর সভায় উপস্থাপন করতে হবে। সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব হলো এসব হিসাব যাচাই করা এবং অনিয়ম থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

অনেক বিল-ভাউচার এখনো জমা না পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান। তিনি বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে হিসাব জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাকসুর উপাচার্য ও সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সভায় হিসাবের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিরা হিসাব দিতে সময় চেয়েছেন। তবে রাকসুকে অবশ্যই নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com