ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৯:২৭ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
Digital Solutions Ltd

স্ত্রীর অনুমতি নয়, আরবিট্রেশন কাউন্সিলই চূড়ান্ত—দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হাইকোর্টের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত : ০৯:২৭ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক :

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের একাধিক বিয়ের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে প্রচলিত ধারণায় নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়; বরং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে দেওয়া রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য আইনে কোথাও স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার কথা সরাসরি বলা হয়নি। ফলে এতদিন ধরে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না—তা আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মত দেন আদালত।

২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত। সে কারণে স্ত্রীর অনুমতি না থাকলেও কাউন্সিলের অনুমোদন থাকলে বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে না।

রায়ে অতীতের আইনগত প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে নারীর ক্ষেত্রে ওই শাস্তির বিধান বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়টি পরিবর্তন করা হয়। নতুন আইনে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের বক্তব্য, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান।

এদিকে সমাজবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ কেউ একাধিক বিয়ের সুযোগের অপব্যবহার করতে পারেন, যা পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আপিল বিভাগে গেলে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com