সংগৃহীত
দেশে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ঘাটতির প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক নীতিগত সংলাপে এসব উদ্বেগের কথা উঠে আসে। সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি মানুষ এই সহায়তা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচারব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চ আদালতে স্থানান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল জানান, আইনে প্রায় ৯০ শতাংশ সংস্কার আনা হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নিজের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই ও অর্থবহ সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপের শুরুতে সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের
স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ। তার মতে, অতীতে গুমের ভয় ভিন্নমত দমন করলেও বর্তমানে ‘মব কালচার’ নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার সার্বজনীন—কোনোভাবেই আপেক্ষিক নয়। রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মনির্ভর রাজনীতিতে আটকে আছে উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে মব শক্তির উত্থান রোধে দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে রিপোর্ট করতে সাংবাদিকরা কেন এখনও ভয় পাচ্ছেন।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোকে বিভক্ত করার প্রবণতা কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিকে উসকে দেয়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রোমিওসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক প্রতিনিধিরা। তারা নাগরিক পরিসর সংকোচন, মব সহিংসতার বিস্তার এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশের অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com