সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে।
গত বুধবার নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। শেখ হাসিনা এ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং নিজের নিরাপত্তা ও অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচার চ্যালেঞ্জের সুযোগ চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য না করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘খুবই চমৎকার অবস্থায়’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে অন্য কাউকে বেছে নিতে বলছে না। বরং বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি বিকল্প অংশীদার হতে চায়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এর আগে নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com