ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৮:৫১ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ৮৯ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০৮:৫১ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক :

ঢাকা মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় প্রথম সংশোধনে দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে জোনায়েদ সাকি বলেন, বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডির পর প্রকল্পের কাজের পরিধি ও বিভিন্ন অঙ্গের স্কোপ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কয়েকটি স্টেশনের অবস্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রকল্পের অন্যান্য কাজও বেড়েছে। এতে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পে জাইকার ঋণ জাপানি ইয়েনে হলেও ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্যমানের পরিবর্তন ব্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, শ্রমের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধিও প্রকল্পের মোট ব্যয় বাড়িয়েছে।

তবে ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প শুরুর সময় জাইকার ঋণের সুদহার ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। দীর্ঘসূত্রতার কারণে বর্তমানে তা বেড়ে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও দেরি হলে সুদহার ও ব্যয় বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্পটি আগে শুরু করা সম্ভব হলে তুলনামূলক কম সুদের ঋণ এবং কম নির্মাণ ব্যয়ের সুবিধা পাওয়া যেত। এখন সময় যত বাড়বে, ঋণের সুদ ও নির্মাণ ব্যয় আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের সঙ্গে নতুন অনুমোদিত দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রায় ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই প্রকল্পের প্রযুক্তি, নির্মাণ পদ্ধতি ও অর্থায়ন কাঠামো ভিন্ন। নর্দার্ন রুটে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার অর্থায়ন রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রকল্পে কোরিয়ান প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই শুধু দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে দুই প্রকল্পের ব্যয় তুলনা করা ঠিক হবে না।

মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। কমিটি প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রযুক্তি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা ও যানজটের চাপ বিবেচনায় কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বড় অঙ্কের এসব প্রকল্পে নির্মাণের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কোনো ত্রুটি, গাফিলতি বা অবহেলার কারণে প্রকল্পের কাজে দুর্বলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানান। পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও ভবিষ্যতে দেশে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com