ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৪:২০ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া আবু তৈয়ব ডাকসু ভিপি নির্বাচনে পেয়েছিলেন ১০ ভোট

প্রকাশিত : ০৪:২০ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার ঘটনায় আলোচনায় আবু তৈয়ব হাবিলদার

নিউজ ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল ও দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া ও অপসারণের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর তার এ কর্মকাণ্ড ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ এর নিন্দা জানাচ্ছেন।

এর মধ্যেই আবু তৈয়বের অতীত এবং ডাকসু নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ ভোট।

আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিকসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় বলে তিনি আগেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাদিক কায়েম রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-সমর্থিত ছাত্রদলের প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

ডাকসু নির্বাচন পোর্টাল-২০২৫-এর ফলাফল অনুযায়ী, আবু তৈয়ব হাবিলদার ভিপি পদে পেয়েছিলেন ১০ ভোট। নির্বাচনের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, জয়-পরাজয় তার কাছে মুখ্য নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এবং ইতিহাসের অংশ হওয়াই তার লক্ষ্য।

২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে আবু তৈয়ব দাবি করেন, ১/১১-এর সময় তিনি তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।

ওই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এর ফলে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনা শেষ করতে না পারায় বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বা চাকরিতে প্রবেশের সুযোগও হয়নি।

আবু তৈয়বের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনি নিজেও রয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব বলেছিলেন, ‘এখানে জেতা-হারার বিষয় নেই। গণতন্ত্রের বিকাশে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তার অধিকার এবং শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ভোট চাওয়ার পরিবর্তে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে বড় ভাই হিসেবে ভালোবাসা প্রত্যাশা করেছিলেন।

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া ও অপসারণের ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসা আবু তৈয়বকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করলেও অনেকে এটিকে সংগ্রহশালার ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

জিন্নাহর ছবি অপসারণের ঘটনা এবং ডাকসু নির্বাচনে তার ব্যতিক্রমী প্রার্থিতা—দুই বিষয় মিলিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com