ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৩:০৩ এএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর গুজব, বলছে সরকার

প্রকাশিত : ০৩:০৩ এএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬

দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও ঢাকায় ভারতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক।

নিউজ ডেস্ক :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সরকার জানিয়েছে, এর কোনো ভিত্তি নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সরাসরি গুজব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি অনলাইন সংবাদ সম্মেলন, ঢাকায় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সফর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠককে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে অনলাইনে লাইভ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত সক্ষমতায় ওই বক্তব্য দিয়েছেন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, ভারত সরকারের কোনো ধরনের অনুমোদন বা সবুজ সংকেত ছাড়া দিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবে বসে এমন একটি সরাসরি সংবাদ সম্মেলন কীভাবে আয়োজন করা সম্ভব হলো।

শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার সময় ঢাকায় ঘটে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা। এ সময় বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জয়ন। একই সময়ে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ এসব ঘটনাকে শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। দিল্লির ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শ্রীরাধা দত্তের মতে, বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের স্বার্থেই নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

তার মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা, সীমান্ত ও বাণিজ্যিক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে ভারত।

তবে বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহিদুর রহমানের বক্তব্যে ছিল ভিন্ন বার্তা। তিনি বলেছেন, অতীতে ভারতের যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বা যে ধরনের মনোভাব দেখিয়েছে, নতুন বাংলাদেশে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

এদিকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সেখানে তাকে গ্রহণ করেন। সে সময় ভারত জানিয়েছিল, সাময়িকভাবে নিরাপত্তার কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা দলটির নেতৃত্ব তার বা পরিবারের বাইরে অন্য কারও হাতে দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতও জটিল অবস্থানে রয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা কঠিন, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক নোট ভার্বাল পাঠায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে ফেরত দেয়নি ভারত।

ফলে তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় হয়ে রয়েছে।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটিকে সরকার গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com