ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০২:০০ এএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

পতিত জমিতে লক্ষাধিক ড্রাগনগাছ, কর্মসংস্থান ৬০ শ্রমিকের

প্রকাশিত : ০২:০০ এএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ৫০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা ড্রাগনবাগানে পাকা ফল সংগ্রহ করছেন শ্রমিকেরা।

নিউজ ডেস্ক :

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের বাগজানা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা হেদায়েত হোসেন শিপলু। একসময় পড়ে থাকা জমিতে ২০২৪ সালে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি। দুই বছরের ব্যবধানে সেই জমিই এখন পরিণত হয়েছে বিশাল ড্রাগনবাগানে। বর্তমানে বাগানে রয়েছে লক্ষাধিক ড্রাগনগাছ।

এ বছর প্রথমবারের মতো বাগানে পুরোদমে ফলন এসেছে। সারিবদ্ধ প্রায় প্রতিটি গাছেই ঝুলছে পাকা ড্রাগন। শ্রমিকেরা গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে আকার ও মান অনুযায়ী আলাদা করছেন। এরপর বাগানের এক পাশে চলছে প্যাকেটজাতের কাজ। পরে ট্রাকে করে এসব ফল পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে শিপলুর এই বাগান। এর মধ্যে নিজের জমি রয়েছে ৭ বিঘা। বাকি জমি তিনি ১৫ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। উদ্যোক্তার দাবি, যে জমিগুলো একসময় অনাবাদি পড়ে ছিল, সেখানেই এখন গড়ে উঠেছে লক্ষাধিক ড্রাগনগাছ।

বাগানে থাই, বারী-১, ভিয়েতনাম, হলুদ ও পলেরা—এই পাঁচ জাতের ড্রাগন চাষ করছেন শিপলু। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাগান দেখতে আসা দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের এক নারী বলেন, এত বড় ড্রাগনবাগান তিনি আগে দেখেননি। গাছে গাছে ড্রাগন দেখে তার ভালো লেগেছে। এলাকায় এ ধরনের আরও বাগান গড়ে ওঠা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেসরকারি চাকরির নিশ্চয়তা ছেড়ে কৃষিকে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে শিপলু বলেন, চাকরি করলে হয়তো শুধু নিজের পরিবারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতো। কৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ায় এখন অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার কাছে বাগানটি শুধু ব্যবসার ক্ষেত্র নয়, স্থানীয় মানুষের জীবিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

বর্তমানে বাগানে প্রায় ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারী ও পুরুষ। এক শ্রমিক জানান, এখানে সারা বছর কাজের সুযোগ থাকায় নিয়মিত আয় হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ চালানো সহজ হয়েছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শ্রমিক পারভীন টপ্প বলেন, আগে কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো। এখন এই বাগানেই নিয়মিত কাজ পাওয়ায় পরিবারের খরচ চালাতে সুবিধা হচ্ছে।

তবে আধুনিক ফল চাষে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রত্যাশিত কারিগরি সহযোগিতা সবসময় পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন শিপলু। তার মতে, সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানো হলে জয়পুরহাটসহ এ অঞ্চলে ড্রাগন চাষের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুর ইসলাম বলেন, ড্রাগন পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের ফল। বর্তমানে জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। হেদায়েত হোসেনের বাগানটি জেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ড্রাগনবাগান।

তিনি জানান, কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে উদ্যোক্তাদের কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এ ধরনের উদ্যোগ জেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমেও কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাণিজ্য বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com