সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলার আসামি জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গ্রহণ করে। অভিযোগে বলা হয়, তার নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলায় উসকানি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর দমন-পীড়নের সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা হিসেবে গত বছরের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে বলপ্রয়োগের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে কারফিউ জারি ও ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ভূমিকা রাখেন। একই ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত, তালিকা প্রস্তুত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে সাতজন নিহত হন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘিরে অভিযান পরিচালনা, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি ও বোমা হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি পরিকল্পনা, প্ররোচনা ও সহায়তা দিয়েছেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুইজন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ মে এ মামলার তদন্ত শুরু হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। পরে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com