ছবি : সংগৃহীত।
কথাগুলো কোনো অতি আবেগি কিশোরের নয়, কথাগুলো নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজার।
যে নড়াইলকে তিনি নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছেন, যে মাটির মানুষের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন নিজের সবটুকু, সেই মাটির প্রতিই কেন আজ এই চরম অভিমান? সম্প্রতি মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছেলের এই বুকফাটা আর্তনাদের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন।
যে মানুষটি সাত-সাতবার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার নিয়েও ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে দেশের জন্য বল হাতে দৌড়েছেন, যে অধিনায়ক আমাদের শিখিয়েছেন হার না মেনে লড়াই করতে—সেই লড়াকু মাশরাফি আজ পরাজিত নিজের আবেগের কাছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে যার প্রতিটি ঘাম আর রক্তবিন্দু মিশে আছে, যার হুঙ্কারে গর্জে উঠত মিরপুর থেকে নড়াইল—আজ সেই গর্জনের জায়গায় ভর করেছে এক নিস্তব্ধ হাহাকার। দেশের জন্য আজীবন লড়াই করা সেই মানুষটিই আজ নিজ জন্মভূমির ওপর অভিমানে নীল হয়ে বলছেন তার শেষ শয্যা যেন সেখানে না হয়।
মাশরাফির বাবা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, মাশরাফি তার কাছে আক্ষেপ করে বলেছিল—যাদের জন্য সে এতকিছু করেছে, তারাই আজ তাকে ভুল বুঝছে। একের পর এক মামলা আর নিজের সাজানো ঘরে আগুন দেওয়া—কি তবে তার ত্যাগের পুরস্কার?
এই প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি বাবাকে অনুরোধ করেছেন, তার মৃত্যুর পর যেন লাশটি নড়াইলে না নেওয়া হয়। একজন বাবার কাছে সন্তানের কাছ থেকে শোনা এই কথাগুলো কতটা কষ্টের, তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
বাবার বয়ানে উঠে আসে এক রুদ্ধশ্বাস বন্দি জীবনের গল্প। গোলাম মর্তুজা স্বপন জানান, প্রায় দুটি বছর জেলখানার মতো ছোট্ট একটি রুমে অতিবাহিত হয়েছে মাশরাফির। যেখানে শুধু খাওয়া আর ঘুমানো। কিন্তু এভাবে তো জীবন চলতে পারে না।
মাঝেমধ্যে মাশরাফি বাইরে বের হতে চাইলে তার বাবাকে বলেন— "আমাকে নিয়ে যাবে নিয়ে যাক, আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি এমন কিছু করি নাই যেটা মানুষের ক্ষতি হয়েছে।"
মাশরাফি জনগণের জন্য তার ঘাম ঝরানো টাকা ব্যয় করেছেন। এমনকি তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে তৈরি করেছিলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’ এর একটি জিম সেন্টার। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতায় তৈরি সেই আশ্রয়টিও আজ তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মাশরাফির বাবা অকপটে স্বীকার করেন তাদের বর্তমান অবস্থার কথা। তিনি বলেন, "আমরা এখন বলতে গেলে পথের ফকির। আমাদের কোনো নগদ টাকা-পয়সা নেই। যা ছিল, তার ওপরই চলেছি আমরা। কোনো ধান্দাবাজি করে খাই নাই, কিংবা আমার পরিবারের কেউ এগুলোর সাথে যুক্তও ছিল না। এখন শুধু জমি-জামা আর খামার আছে, সেগুলো দিয়েই কোনোমতে চলছে আমাদের দিনকাল।"
সাক্ষাৎকারের শেষে মাশরাফির বাবা বাংলাদেশের সকল রাজনীতিবিদের প্রতি এক আকুল আবেদন জানান। তিনি বলেন, "কেউ যেন কারো বাড়িঘরে হামলা না করে। কারণ এই বাড়ি প্রত্যেকের স্বপ্নের ঠিকানা।"
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com