বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় মুখর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জাইমা রহমানের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাবার প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক ও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণই এই আলোচনার মূল কারণ। সর্বশেষ দাদি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকে বাবার পাশে জাইমা রহমানের উপস্থিতি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এর আগেও একাধিক ঘটনায় রাজনীতির আলোচনায় এসেছেন তিনি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। পরে প্রবাসী ভোটারদের অধিকার নিয়ে বিএনপির আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিএনপির ইতিহাসে পারিবারিক ধারাবাহিকতা নতুন কিছু নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধেই রাজনীতিতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানও ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। সে প্রেক্ষাপটে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে জাইমা রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভাব অনেকের কাছেই সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে জাইমা রহমানের পথচলা ছিল ভিন্নরকম। দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন রাজনীতির দৃশ্যপটের বাইরে। কোনো আন্দোলন, সভা-সমাবেশ বা আনুষ্ঠানিক পদে তাকে দেখা যায়নি। তার নাম ছিল মূলত ‘সম্ভাবনার তালিকায়’। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সেই অবস্থান বদলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে গত বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার ব্যস্ততায় ছিলেন তারেক রহমান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৭৩তম ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’-এ তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় তার প্রতিনিধি হিসেবে জাইমা রহমান সেখানে যান। ওই সফরে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটিই ছিল জাইমার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রথম দৃশ্যমান পদচারণা।
পরবর্তীতে গত ২৩ নভেম্বর প্রবাসী ভোটাধিকার নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে দেওয়া তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাবার রাজনৈতিক কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবেন জাইমা রহমান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
ব্যক্তিগত জীবনে জাইমা রহমানের জন্ম ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫। শৈশব কাটে ঢাকার সেনানিবাস এলাকায়। পরে ২০০৮ সালে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে যান। সেখানেই পড়াশোনা শেষে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৯ সালে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘বার অ্যাট ল’ ডিগ্রি লাভ করে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি।
গত ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাইমা রহমান দাদি খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন। একই সঙ্গে বাবাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের সময়ও বাবার পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। বিদেশি অতিথিদের সমবেদনা গ্রহণ থেকে শুরু করে জানাজা ও দাফনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এসব ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলের ধারণা—আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও জাইমা রহমানের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com