ঢাকা, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক :
প্রকাশিত : ১১:৩২ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালী ভারতের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি বিজেপি সাংসদের

প্রকাশিত : ১১:৩২ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে

আন্তর্জাতিক :

পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আজাদ কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

নিশিকান্ত দুবের দাবি, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর অঞ্চল একসময় প্রাচীন ‘তিপ্রা’ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে আজাদ কাশ্মীর পুনর্দখল করার পাশাপাশি নেহেরু জোরপূর্বক যে ভূখণ্ডগুলো হস্তান্তর করেছিলেন, তা ফেরত নেওয়ার সময়ও এসেছে; হোক সেটি নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা সিলেট।’

বিজেপির এই সাংসদ বলেন, অবিভক্ত ত্রিপুরার শেষ স্বাধীন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য তাঁর ভূখণ্ড নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁর রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে কীভাবে আলোচনা হতে পারে এবং নোয়াখালী, সিলেট কিংবা চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

ত্রিপুরার ভারতে অন্তর্ভুক্তির ইতিহাস টেনে দুবে বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন এবং মহারানি কাঞ্চন প্রভা ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে অন্তর্ভুক্তির সনদে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অংশ হয়।

১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে নেহেরুর সমালোচনাও করেন তিনি। দুবের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নেহেরু এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে নোয়াখালীর সহিংসতার দিকে যথাযথ নজর না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লীগকে যুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

দুবের দাবি, ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর নেহেরু অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর মুসলিম লীগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কর্মসূচি শুরু করে। নোয়াখালীতে ১৫ অক্টোবর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ সংখ্যার পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীন সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনুন্নয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিজেপির এই সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ ও গ্যাসসম্পদের পূর্ণ ব্যবহার এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালীকে ভারতের সীমানায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দুবে। তাঁর অভিযোগ, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগের ‘রেড আর্মি’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নোয়াখালীর হত্যাযজ্ঞ, চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা ও সিলেটে গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত করে এবং তিনি বিচার বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন বলে দাবি করেন বিজেপির এই নেতা।

এদিকে ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান ও তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেব বর্মাও দেশভাগের সময় সাবেক ত্রিপুরা রাজ্যের একটি বড় অংশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এ সিদ্ধান্তের সময় তাঁর ঠাকুরমাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

দেশভাগের ওই অধ্যায়কে ভারতের ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ উল্লেখ করে প্রদ্যোত বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলো ভারতের সঙ্গে থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সরাসরি সমুদ্রসংযোগ থাকত। এতে শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ নিয়ে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগও কমতে পারত বলে তাঁর দাবি।

নিজেদের ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রদ্যোত। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনটির উদ্দেশ্য অতীতের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে পুনরেকত্রীকরণ করা।

আন্তর্জাতিক বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com