ঢাকা, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৮:৫৩ এএম, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

জমি লিখে নেওয়া শেষে গাছতলায় ফেলে গেলেন ৬ সন্তান, কাতরে মরছেন ৯৫ বছরের শামসুল

প্রকাশিত : ০৮:৫৩ এএম, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লা

ডিজিটাল রিপোর্ট :

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার। ছয় সন্তানের কেউই তাঁর দায়িত্ব নিতে রাজি নন বলে অভিযোগ। শেষ বয়সে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় হয়েছে তাঁর। সেখানেই কাটছে অসহায় দিন।

শামসুল হক মোল্লা কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজে যান শামসুল হক। সে সময় অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে রাজি নন তাঁর সন্তানেরা। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত বলে জানা গেছে।

গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে গাছের নিচে রেখে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মায়া বেগম বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ। এ ছাড়া বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকেন। ফলে বাবাকে নিজের কাছে রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের দাবি, জমি বিক্রির পর বাবা চার বোনকে চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন। অন্যদিকে দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে শামসুল হকের দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, শামসুল হকের কাছ থেকে জমিজমা লিখে নেওয়ার পরও সন্তানেরা তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছেন না। তাঁর মতে, জমি লিখে না দিলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সন্তানদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে শামসুল হক বলেন, এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না। সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছেন। অথচ এখন তাঁদের কাছেই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানান, বিষয়টি শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। শামসুল হকের সন্তানেরা তাঁর দেখাশোনা না করলে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com