ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৬:২৩ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

হারিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ভাইদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম

প্রকাশিত : ০৬:২৩ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

৫০ বছর পর দেশে ফিরে হারানো পরিবার পেলেন পরী বেগম

ডিজিটাল রিপোর্ট :

শৈশবে হারিয়ে যাওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ দশক। এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে জীবন, দেশ, ভাষা ও পারিপার্শ্বিকতা। তবু মনের গভীরে রয়ে গিয়েছিল জন্মভূমি ও পরিবারের স্মৃতি। অবশেষে দীর্ঘ বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন পাকিস্তানে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরী বেগম। হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তাঁর স্বজনেরা।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরী বেগম মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে মানব পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে চলে যেতে হয় তাঁকে।

দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের এই ঘটনা স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। তবে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে বসবাসের কারণে বাংলা ভাষা প্রায় ভুলে গেছেন পরী বেগম। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ভাষাগত সমস্যা হলেও আবেগ ও ভালোবাসায় সেই দূরত্ব অনেকটাই ঘুচে গেছে।

শৈশবে হারিয়ে, নতুন জীবন পাকিস্তানে

পরী বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, একাধিকবার হাতবদল হওয়ার পর পাকিস্তানের এক দম্পতির আশ্রয়ে জায়গা হয় তাঁর। ওই দম্পতি তাঁকে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সেখানে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার গড়ে ওঠে।

নতুন পরিবেশে সংসার ও সন্তানদের নিয়ে জীবন কাটলেও শৈশবে ফেলে আসা বাবা-মা এবং ভাইবোনদের স্মৃতি কখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় জন্মভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়।

দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে পরিবারের সন্ধান

দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরী বেগমের জীবনে আশার আলো হয়ে আসেন পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশের দুই যুবক। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে পরী বেগমের পরিচয় হয়।

একপর্যায়ে নিজের হারিয়ে যাওয়া শৈশব ও পরিবারের কথা ওই দুই যুবকের কাছে তুলে ধরেন তিনি। পরে তাঁরা পরী বেগমের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যান। কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁর জন্মস্থান ফরিদপুরের নগরকান্দা এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন তাঁরা।

পরী বেগম তাঁদের জানান, তাঁর বাবার নাম নওশের আলী মাতুব্বর। তাঁর ভাইদের নাম মেহে তাই সাইফুল মাতুব্বর ও ছোট ভাই সোলেমান মাতুব্বর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের নামের বানান ও পরিচয় প্রকাশের আগে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।

দুই যুবক তাঁকে আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সন্ধান করবেন এবং স্বজনদের খুঁজে পেলে যোগাযোগের ব্যবস্থা করবেন।

বাংলাদেশে ফিরে শুরু হয় স্বজনদের খোঁজ

পাকিস্তান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ফিরে ওই দুই যুবক পরী বেগমের পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাঁর স্বজনদের খুঁজে পান তাঁরা।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার পর সামনে আসে কয়েক দশকের বিচ্ছেদের কাহিনি। হারিয়ে যাওয়া বোনের সন্ধান পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর ভাইয়েরা। পরে মুঠোফোনে ভাইবোনদের কথা হয়। দীর্ঘদিনের দূরত্ব পেরিয়ে আবারও সম্পর্কের বন্ধন গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানে বসেই পরী বেগম ফিরে পান নিজের পরিবারের খোঁজ। বাংলাদেশে স্বজনেরাও অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁকে একনজর দেখার জন্য।

পাঁচ দশক পর জন্মভূমিতে ফেরা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন পরী বেগম। প্রায় ৫০ বছর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন।

হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পেয়ে স্বজনেরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। বাড়িতে সৃষ্টি হয় আনন্দ ও ভালোবাসার পরিবেশ। দীর্ঘদিনের শূন্যতা যেন এক মুহূর্তে ফিরে পাওয়ার আনন্দে ভরে ওঠে।

তবে প্রায় পাঁচ দশক পাকিস্তানে কাটানোর কারণে পরী বেগম বাংলা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন না। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলেও তিনি মূলত উর্দু ভাষায় কথা বলেন। ফলে তাঁর বক্তব্য বুঝতে পরিবারের সদস্যদের কিছুটা অসুবিধা হয়।

কিন্তু ভাষার এই ব্যবধান পুনর্মিলনের আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি। চোখের জল, হাসি ও আবেগঘন অভিব্যক্তির মধ্য দিয়েই স্বজনেরা একে অপরের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেন।

পরী বেগমকে দেখতে বাড়িতে ভিড়

পরিবারের সঙ্গে পরী বেগমের পুনর্মিলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। সমবয়সী নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর—অনেকেই দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকা একজন নারীর স্বজনদের কাছে ফিরে আসার ঘটনা দেখতে আসেন।

স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি যেমন বিস্ময়কর, তেমনি আবেগেরও। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর জন্মভূমিতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এই ঘটনা হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের টান ও স্বজনদের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসার এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com