উত্তর প্রদেশের বিজনোরে লাউড স্পিকারে আজান নিয়ে পুলিশের অভিযান।
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় লাউড স্পিকারে নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি মাত্রায় আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নাজিবাবাদের মকবারা এলাকার নাজিব-উদ-দৌলা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদটি একটি সরকারি কলেজের কাছাকাছি অবস্থিত। আজানের শব্দ শোনার পর পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ মসজিদে অভিযান চালিয়ে একটি লাউড স্পিকার জব্দ করে। পুলিশের দাবি, যন্ত্রটি থেকে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শব্দ ছড়ানো হচ্ছিল। উপপরিদর্শক সৌরভ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মুয়াজ্জিন ফাইজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে মহকুমা শাসকের আদালতে হাজির করা হলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে এমনভাবে লাউড স্পিকার স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সহজে সেটি দেখা না যায়। অতিরিক্ত শব্দে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ মানুষের অসুবিধা হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আজানের সময় শব্দের মাত্রা কত ডেসিবেল ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লাউড স্পিকার জব্দ করার আগে ডেসিবল মিটারের সাহায্যে শব্দ পরিমাপ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নাজিবাবাদের কাজি আফান-উল-হক। তাঁর মতে, গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে মুয়াজ্জিনকে সতর্ক করার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেত।
পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে লাউড স্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশ সুপার বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কনস্টেবলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগের মাসেও বিজনোর জেলায় ধর্মীয় স্থানগুলোতে অনুমোদিত মাত্রার বেশি শব্দে লাউড স্পিকার ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে মসজিদ, মন্দির ও গুরুদুয়ারা থেকে লাউড স্পিকার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় স্থানে লাউড স্পিকার ব্যবহারের নিয়ম ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, আজান ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ হলেও লাউড স্পিকারের মাধ্যমে আজান প্রচারকে সেই অধিকারের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সূত্র: মুসলিম মিরর, হিন্দুস্তান টাইমস (প্রদত্ত প্রতিবেদনের সূত্র)।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com