ঢাকা, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৮:২৮ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই, ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৮:২৮ এএম, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ।

নিউজ ডেস্ক :

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর টিপসই নেওয়ার পর তার নামে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন ছেলের বিয়ে হয়েছে। তার সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আছিয়ার মেঝ ছেলে আসাদুলের বিয়ের সময় প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুসকে উকিল শ্বশুর করা হয়। এরপর আত্মীয়তার সূত্রে কুদ্দুসের সঙ্গে তাদের পরিবারের যোগাযোগ ছিল। তিনি কয়েকবার আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আছিয়াকে তার দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর একটি খাতায় তার কাছ থেকে দুটি টিপসইও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আছিয়া।

পরে আছিয়া বেগম ও আব্দুল কুদ্দুসের বিয়ে হয়েছে—এমন একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ এলাকায় প্রচার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আছিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে আছিয়ার বাড়িতে এ নিয়ে সালিশ বসে। সেখানে ভুক্তভোগীর বক্তব্য শোনেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। অভিযুক্ত আব্দুস ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় বুধবার (৭ অক্টোবর) পুনরায় সালিশের দিন নির্ধারণ করা হয়।

সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি, আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার টিপসই নেওয়া হয়। পরে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসের সিলযুক্ত একটি কাবিননামা তৈরি করা হয়। এতে দেনমোহর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

কাবিননামায় আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম নামে দুজনকে সাক্ষী করা হলেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আব্দুস ছাত্তারের পাশাপাশি আব্দুল হেকিম মাস্টার জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস ছাত্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিনি আছিয়ার কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে তারা খোঁজ নিয়েছেন। আব্দুস ছাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। তবে বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একদিন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। পরে ফোন করে দোকানে নিয়ে গিয়ে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়। এখন তাকে কুদ্দুস বিয়ে করেছেন বলে এলাকায় প্রচার করা হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে তিনি বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান। ঘটনার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এদিকে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, তার নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কেউ কাবিননামাটি তৈরি করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ ভুক্তভোগী নারীকে সম্মানহানির বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক একজন নারীর সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগের নিন্দাও জানান তিনি।

রাজনীতি বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com