মুঠোফোনে মা-বাবার ছবি দেখছে ৯ বছরের আরিফা।
জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল আরিফিন ইসলাম আরফা। এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারিয়েছে ৯ বছরের এই শিশু। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নয়, জীবনের শুরুতেই মা-বাবা দুজনকেই হারিয়ে এখন দাদি ও চাচাদের আশ্রয়ে বড় হচ্ছে আরফা।
২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পর শারীরিক জটিলতায় তার মা মারুফা আক্তার নড়াইল থেকে যশোরে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা আরফাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। দাদি সখিনা বেগম মায়ের মতো করে তাকে বড় করে তুলছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে মারা যান আরফার বাবা তাজুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। একটি মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি টিসিবির ডিলার হিসেবেও কাজ করতেন। আরফা রামপুরার একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাবার মৃত্যুর পর আরফার সবচেয়ে বড় ভরসা এখন দাদি ও চাচারা। বড় চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাজুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি আর বিয়ে করেননি। একাই মেয়ের মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে তাজুল ছিলেন উদাসীন। এর আগে যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে তার মৃত্যু হয়।
আরফার ভবিষ্যতের জন্য তাজুল কোনো সঞ্চয় রেখে যেতে পারেননি বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। বরং তার মৃত্যুর পর পাওনাদারেরা টাকা চাইতে আসছেন। ফলে একদিকে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে বাবার দেনা পরিশোধ—দুই দিক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
আরফা এখনো বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে। মুঠোফোনে বাবার সঙ্গে নিজের ছবি দেখানোর পাশাপাশি মা-বাবার বিয়ের ছবিও দেখায় সে। মায়ের কবরের ছবি দেখিয়ে বলে, ‘এটি মায়ের কবর।’ পরে বাবার কবরের ছবিও দেখায়। নিজেই জানায়, বাবাকে বাবার বাড়িতে আর মাকে মায়ের বাড়িতে কবর দেওয়া হয়েছে।
বাবার কথা বলতে গিয়ে আরফা জানায়, বাবার দোকানে যেত, বাবা তাকে মাঝেমধ্যে টাকা দিতেন এবং ঘুরতে নিয়ে যেতেন। এমনকি মৃত্যুর আগে হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা অবস্থায়ও বাবা তাকে বলেছিলেন, তার তেমন কিছু হয়নি, সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরবেন। কিন্তু সেই বাবাই আর নেই।
আরফা বলে, ‘এখন বাবা ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না।’
তবে মন খারাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে না শিশুটি। প্রিয় বিড়াল ভুতুমকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ পরই স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরে রংপেনসিল নিয়ে ছবি আঁকতে বসে। দাদি সখিনা বেগমের কাছে ভাত খাওয়ার বায়নাও করে। দাদি মুরগির মাংস ও আলুর ঝোল দিয়ে ভাত মেখে নাতনিকে খাইয়ে দেন।
দাদি সখিনা বেগমের বয়সও হয়েছে। নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আরফার দেখাশোনা করবেন। তবে সরকার বা অন্য কেউ তার নাতনির পাশে দাঁড়াতে চাইলে তারা তা স্বাগত জানাবেন।
বড় চাচা শফিকুল ইসলামও আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, তাদের ভাই তাজুল মেয়ের কথা ভেবেছেন, কিন্তু আর্থিকভাবে সঞ্চয় করে যেতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com