ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ১২:৪৩ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

এক বছরে ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর, আছে সাফল্য-সমালোচনা

প্রকাশিত : ১২:৪৩ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক বছরে নানা উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমের দাবি ডাকসুর। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। এক বছরের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করার দাবি করেছে ডাকসু নেতৃত্ব। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায় সাদিক কায়েম-এস এম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলেও ডাকসু নেতারা শপথ নেন ১৪ সেপ্টেম্বর। ফলে ওই দিনই তাদের দায়িত্বের এক বছর পূর্ণ হবে।

ডাকসুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ হাজার ছোট-বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বরাদ্দ সীমিত থাকলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর সংগ্রহ করে এসব কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করেছে ডাকসু।

অবকাঠামো ও আবাসনে বড় প্রকল্প

ডাকসুর অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে পাঁচটি হল নির্মাণে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সম্মতি আদায়ের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজও চলমান রয়েছে। কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ছাত্রীদের জিমনেশিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য জানিয়েছে ডাকসু।

পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তুরস্কের সহযোগিতায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। হলগুলোতে ১৮ দফায় ছারপোকা নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার মতো কার্যক্রমও চালানো হয়েছে।

শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও গবেষণায় কার্যক্রম

ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকীয় উদ্যোগে সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিনামূল্যে বিভিন্ন কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছে ডাকসু।

জব ফেয়ারের মাধ্যমে চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত জার্নালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কলাভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় ১ হাজার ছাত্রীকে হিজাব বিতরণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণের কথাও জানিয়েছে ডাকসু।

এ ছাড়া ডাকসুর দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদসংক্রান্ত একটি রেজুলেশন বাতিল করা হয়।

‘বরাদ্দের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছি’

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করেছে ডাকসু। তার ভাষ্য, প্রথমে ২৫ লাখ টাকা এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্পন্সরের মাধ্যমে তারা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে হওয়া অনেক কাজ মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাষ্ট্র বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় ডাকসু এসব উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, মেয়াদ শেষের দিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাকসুর পুরো বছরের কার্যক্রম এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র

ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একদিকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষও আছে।

ঢাবি শিক্ষার্থী ইফতেখার হাসান তানভীর মনে করেন, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, হলের আসন ব্যবস্থায় দ্রুততা, মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগ নিচতলায় নেওয়ার উদ্যোগ এবং ছাত্রীদের জন্য জিমনেশিয়ামসহ বেশ কিছু কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহন সমস্যার মতো বিষয় এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) শিক্ষার্থী নায়েম ইসলাম সিয়ামের অভিযোগ, তার অনুষদে ডাকসুর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। ই-লাইব্রেরি চালু, লিফট মেরামত, জব ফেয়ার, বিজনেস কেস স্টাডি ও প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলেও তিনি জানান।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবহন ও কমনরুম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একটি বাসের ব্যবস্থা করা হলেও নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি কমনরুম বন্ধ থাকা, ওয়াশরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়া এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন

ডাকসুর কার্যক্রমের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতা লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির বাইরে থাকার কথা বললেও পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারে অংশ নিয়েছেন।

কলা অনুষদের শিক্ষার্থী মিরাজ মজুমদার বলেন, ডাকসু প্যানেল দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে কি না—এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ১৯৭১-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ডাকসুর কিছু বক্তব্য নিয়েও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আপত্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।

‘ডাকসুকে কোনো দলের অফিসে পরিণত হতে দিইনি’

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে ছাত্র সংসদের কার্যক্রমে রাজনৈতিক আধিপত্য ও বিভিন্ন পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা ছিল। তাদের নেতৃত্বাধীন ডাকসু সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে কাজ করার চেষ্টা করেছে।

তার দাবি, বর্তমান প্যানেলে বাম, সাধারণ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিভিন্ন হলেও ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডাকসুর পক্ষ থেকে পুরো বছরের কাজ, ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের কথা জানানো হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com