ঢাকা, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৭:৪৫ এএম, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’—প্রসিকিউশনের মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

প্রকাশিত : ০৭:৪৫ এএম, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মামলায় সাক্ষীর জেরাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ডিজিটাল রিপোর্ট :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জেরা চলাকালে প্রসিকিউশনের এক সদস্যের ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে আপত্তি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয়পক্ষকে সতর্ক করেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষীকে জেরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আসামিপক্ষে সাক্ষীকে জেরা করছিলেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, গাজী এমএইচ তামিম ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

জেরার একপর্যায়ে ২০২৪ সালের হাইকোর্টের একটি রায় নিয়ে সাক্ষীর কাছে জানতে চান আইনজীবী পলাশ। জবাবে সাক্ষী জানান, ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়েছিল কি না, তা তাঁর জানা নেই।

সাক্ষী আরও বলেন, একই দিন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে একটি আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেটি তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ‘মনভোলানো কৌশল’ ছিল বলে তাঁর বক্তব্য। পরে ওই মামলার শুনানির তারিখ জানতে চাইলে তিনি তা মনে করতে পারেননি।

এরপর আরও কিছু প্রশ্ন করা হলে প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়। এ সময় আসামিপক্ষের সারিতে বসা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রসিকিউশনই জেরা করুক, তাঁরা বসে থাকবেন।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ডায়াসে গিয়ে মুনসুরুল হক অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের কেউ দাঁড়িয়ে গেলে সাক্ষীর মনোযোগ সেদিকে চলে যায় এবং তিনি সতর্ক হয়ে পড়েন। এতে সাক্ষীর কাছ থেকে সত্য বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন পড়ে শোনান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

পরে পুনরায় জেরা শুরু হলে সাক্ষীকে প্রসিকিউশনের দিকে মুখ ফিরিয়ে উত্তর দিতে বলা হয়। জবাবে সাক্ষী ‘ঠিক আছে, তাহলে আমি সরে যাই’ বলে নিজের চেয়ার ঘুরিয়ে নেন। এ সময় প্রসিকিউশনের এক সদস্য বলে ওঠেন, ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ আছে’।

এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, তাহলে তাঁর জেরা করা ঠিক হবে না; এটি এক ধরনের হুমকি। এ নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল হস্তক্ষেপ করেন। পরে দুই পক্ষকেই শান্ত ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার জেরা শুরু করেন আইনজীবী পলাশ। তিনি ৯ জুলাই কোনো সহিংসতা হয়েছিল কি না, তা জানতে চান। জবাবে সাক্ষী বলেন, ওই দিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহিংসতা হয়নি। তবে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল।

মামলার পটভূমি

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাইয়ের একটি ফোনালাপে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ওই রাতেই কারফিউ জারি করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তাঁদের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছেন এবং নির্যাতন বন্ধে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যক্ষ জ্ঞাতসারে ও উসকানিতে ২৩ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৃতীয় অভিযোগে ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট কারফিউ জারি ও মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানির পর মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু ও আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাঁদের নির্দেশে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির ও রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

আইন-আদালত বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com