ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ডিজিটাল রিপোর্ট :
প্রকাশিত : ০৭:০৬ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়, যা বলছে আয়কর আইন

প্রকাশিত : ০৭:০৬ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ই-টিন থাকলেই রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয় না।

ডিজিটাল রিপোর্ট :

ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন থাকলেই আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। আয়কর আইন অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জরিমানা নির্ধারণে নির্দিষ্ট বিধান ও শর্ত রয়েছে। তাই শুধু ই-টিন থাকলেই সবার জন্য একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়।

রিটার্ন না দিলে কত টাকা জরিমানা হতে পারে?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন।

আইনের বিধান অনুযায়ী, সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা। রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

তবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের আয় আগে কখনো নিরূপণ করা হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫ হাজার টাকা। আর যাদের আয় আগে নিরূপণ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা হিসেবে প্রযোজ্য।

কারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য?

শুধু ই-টিন থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে একই পরিস্থিতিতে রিটার্ন জমা দিতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। আবার আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেই রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পাওয়া যায় না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণকারীদের রিটার্ন দাখিল বা রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে।

সাধারণভাবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হতে পারে—

১. যাদের বার্ষিক আয় প্রযোজ্য করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে।

২. ফার্মের অংশীদার এবং কোম্পানির নির্দিষ্ট শ্রেণির পরিচালক বা কর্মচারী।

৩. সরকারি চাকরিজীবীসহ আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি।

৪. ব্যাংকঋণ, ক্রেডিট কার্ড, জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনসহ নির্দিষ্ট কিছু সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যাদের রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য কি না, তা তাঁর আয়, পেশা, লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

ই-টিন থাকলেও আয় না থাকলে কী করবেন?

বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকে আগে ই-টিন নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের কারও কারও বর্তমানে আয় নেই, আবার কারও আয় করযোগ্য সীমার নিচে। তবে আয় কমে যাওয়া বা বর্তমানে কর দিতে না হওয়া মানেই রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট কর অফিসে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও আইনি শর্ত পূরণের ওপর।

নতুন কর কাঠামোয় করমুক্ত আয়ের সীমা

২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য এ সীমা ৫ লাখ টাকা। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তবে করমুক্ত সীমা ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও আইন অনুযায়ী কারও রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে নিজের কর পরিস্থিতি যাচাই করবেন?

নিজের নামে কোনো বকেয়া রিটার্ন, নোটিশ বা অন্য কোনো করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া উচিত।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দেখে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত বাধ্যবাধকতা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সময়মতো রিটার্ন দাখিল করাই যুক্তিযুক্ত।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com