ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০৭:৪৪ এএম, ২০ আগস্ট ২০২৬
Digital Solutions Ltd

তৃণমূল থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

প্রকাশিত : ০৭:৪৪ এএম, ২০ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিউজ ডেস্ক :

তৃণমূল থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকার কারণে রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণও করতে হয়েছিল তাকে।

স্বাধীনতার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে সেই পেশা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেলা বিএনপির সভাপতি, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ছাত্ররাজনীতি

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একাধিকবারের সংসদ সদস্য এবং পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন মির্জা ফখরুল। সেখান থেকেই তার ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় পথচলা শুরু।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে কারাগারেও যেতে হয়।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারীর পদত্যাগের পর আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং ইউনেসকো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন।

সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরের বছর ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

বিএনপির মহাসচিব

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর বিরোধী দলের রাজনীতিতে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিতি পান।

২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ও বিজয়

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৩ আগস্ট বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী ঘোষণা করে এবং তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

এর মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবাহিত। তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপি সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন।

ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতি—দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তার রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা দেশের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকল।

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com