পরিচয়ের সংকট ও সামাজিক বৈষম্য পেরিয়ে কূটনীতিক হয়েছেন ওয়ালিদ ইসলাম
পরিচয় নিয়ে সামাজিক বৈষম্য, কটূক্তি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ওয়ালিদ ইসলাম। যশোরের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি এখন বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক। তাঁর জীবনের গল্পে রয়েছে মায়ের আত্মত্যাগ, নিজের অধ্যবসায় এবং পরিচয়ের সংকট পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ লড়াই।
ওয়ালিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তাঁর শারীরিক ও আচরণগত ভিন্নতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কটূক্তির মুখে পড়তে হতো পরিবারকে। একসময় হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাঁকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে সন্তানকে আগলে রাখতে এগিয়ে আসেন তাঁর মা। নিজের শেষ সম্বল এক জোড়া সোনার চুড়ি দিয়ে সন্তানকে ফিরিয়ে আনেন তিনি। এরপর সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবার নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যান।
পরিবারের আশ্রয়ে শুরু হয় ওয়ালিদের পড়াশোনার সংগ্রাম। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচয় নিয়ে সহপাঠীদের কটূক্তি ও সামাজিক হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। তবে এসব বাধা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।
পড়াশোনা শেষে বিসিএসের প্রস্তুতি নেন ওয়ালিদ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। পরিচয় ও লিঙ্গসংক্রান্ত জটিলতা পেরিয়ে ২০১৭ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে দেশের বাইরেও কাজ করেছেন ওয়ালিদ। ইরানের তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘদিন নিজের তৃতীয় লিঙ্গের পরিচয় আড়ালে রেখেছিলেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে নিজের আত্মপরিচয়ের কথা জানান। ওয়ালিদের ভাষ্য, পরিচয় গোপন রাখার মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক হয়রানির অভিজ্ঞতা তাঁকে পরিচয় প্রকাশে উৎসাহিত করেছে।
নিজের শারীরিক জটিলতা ও ক্যানসারের সঙ্গেও লড়াইয়ের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।
মায়ের আত্মত্যাগ, নিজের অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ওয়ালিদ ইসলাম হয়ে উঠেছেন পরিচয় ও সামাজিক বৈষম্য পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর জীবনকাহিনি মনে করিয়ে দেয়, একজন মানুষের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে—পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com