ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ১২:৩২ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

ভাত খাওয়া কমেছে ২৫ শতাংশ, পাতে বাড়ছে ফল-মাছ-মাংস

প্রকাশিত : ১২:৩২ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত দুই দশকে বাংলাদেশিদের খাদ্যাভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন।

নিউজ ডেস্ক :

গত দুই দশকে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। ভাত এখনো দেশের প্রধান খাদ্য হলেও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ কমেছে। একই সময়ে বেড়েছে ফল, শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের মতো বিভিন্ন খাবারের গ্রহণ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘খানা আয় ও ব্যয় জরিপ’ (এইচআইইএস)-এর ২০০৫ থেকে ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ২০০৫ সালে একজন বাংলাদেশি গড়ে প্রতিদিন ৪৩৯ দশমিক ৬ গ্রাম ভাত খেতেন। ২০২২ সালে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৮ দশমিক ৯২ গ্রামে। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে দৈনিক মাথাপিছু ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমেছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে। ২০০৫ সালে মাথাপিছু দৈনিক ফল গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫ গ্রাম। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৯৫ দশমিক ৪ গ্রামে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

শাকসবজি গ্রহণও বেড়েছে। এ সময়ে প্রতিদিন মাথাপিছু শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ ১৫৭ গ্রাম থেকে বেড়ে ২০১ দশমিক ৯২ গ্রামে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভাত ও সবজি খাওয়ার ব্যবধানও কমেছে। ২০০৫ সালে মানুষ সবজির তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ গুণ বেশি ভাত খেত। ২০২২ সালে এ অনুপাত নেমে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণে।

আলু খাওয়ার পরিমাণও ৬৩ দশমিক ৩ গ্রাম থেকে বেড়ে ৬৯ দশমিক ৭ গ্রামে দাঁড়িয়েছে।

বাড়ছে মাছ, মাংস ও ডিমের চাহিদা

মাছ এখনো বাংলাদেশের খাদ্যতালিকার অন্যতম প্রধান উপাদান। ২০০৫ সালে মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৪২ দশমিক ১ গ্রাম। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬৭ দশমিক ৮৩ গ্রামে পৌঁছেছে। তবে অন্যান্য কিছু খাবার আরও দ্রুত বাড়ায় জাতীয় খাদ্যতালিকার অবস্থানে মাছ পিছিয়েছে।

প্রাণিজ আমিষ গ্রহণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ ৭ দশমিক ৮ গ্রাম থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ গ্রামে দাঁড়িয়েছে। হাঁস-মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৮ গ্রাম থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ দশমিক ১৭ গ্রাম। খাসির মাংস খাওয়ার পরিমাণও ০ দশমিক ৬ গ্রাম থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৮ গ্রামে পৌঁছেছে।

ডিম খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। ২০০৫ সালে মাথাপিছু দৈনিক ডিম গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ২ গ্রাম, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১২ দশমিক ৭৩ গ্রামে দাঁড়িয়েছে।

ডাল খাওয়ার পরিমাণ ১৪ দশমিক ২ গ্রাম থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ১৫ গ্রাম হয়েছে। তবে অন্যান্য খাবারের গ্রহণ তুলনামূলক বেশি বাড়ায় খাদ্যতালিকার অবস্থানে ডালের জায়গা কিছুটা পিছিয়েছে। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের গ্রহণে পরিবর্তন তুলনামূলক কম—৩২ দশমিক ৪ গ্রাম থেকে বেড়ে ৩৪ দশমিক ১ গ্রাম হয়েছে।

খাবারে বৈচিত্র্য এলেও বাড়ছে তেলের ব্যবহার

খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বাড়লেও সব পরিবর্তন যে স্বাস্থ্যকর, তা নয়। ২০০৫ সালে মাথাপিছু দৈনিক ভোজ্যতেল গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৫ গ্রাম। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩০ দশমিক ৮৫ গ্রামে পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি।

চিনি ও প্রাণিজ চর্বির ব্যবহারও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সামনে আনছে। ফলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি পরিমাণ ও পুষ্টির ভারসাম্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, আয় বৃদ্ধি, নগরায়ণ, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এই রূপান্তর ঘটেছে।

খাদ্য ব্যয়ের চিত্রেও পরিবর্তন

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবারের আয়-ব্যয়ের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০০৫ সালে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সে সময় একটি পরিবারের মোট ব্যয়ের ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ খাবারের পেছনে চলে যেত। খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় ছিল ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ।

২০২২ সালে খাদ্যে পারিবারিক ব্যয়ের হার কমে ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ দশমিক ২ শতাংশে।

আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবহন, যোগাযোগ ও অন্যান্য সেবায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিবারের বাজেটে খাদ্যবহির্ভূত খাতের গুরুত্ব বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও আয়ভিত্তিক বৈষম্য রয়েছে। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের মোট ব্যয়ের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো খাবারের পেছনে যায়। বিপরীতে সবচেয়ে স্বচ্ছল ৫ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে খাদ্য ব্যয়ের হার মাত্র ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো এখনো ভাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে এসব পরিবারকে অনেক সময় পুষ্টিকর খাবারের ব্যয় কমাতে হয়।

আয় বাড়ার সঙ্গে বদলাচ্ছে খাদ্যতালিকা

অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের আয় বৃদ্ধি, নগরায়ণ, পরিবর্তিত জীবনযাপন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সহজলভ্যতা এবং খাদ্যের আপেক্ষিক দামের পরিবর্তন—সব মিলিয়েই বাংলাদেশের খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তন এসেছে।

বিবিএসের জাতীয় হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই) ৩ হাজার ২০ ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে মাথাপিছু জিএনআই ছিল মাত্র ৫৭৭ ডলার।

তবে খাদ্যতালিকার পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি ও আমদানি ব্যবস্থার ওপরও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। চালের পাশাপাশি মাংস, মাছ, ফলমূল, গম ও ভোজ্যতেলের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকলে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা সেই চাহিদা পূরণ করতে না পারলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

লাইফ স্টাইল বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com