দীপাবলির আগে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ভুয়া অর্ডারে বাড়ি ছাড়লেন ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার
দীপাবলির আগে অনুসারীদের কাছে মিষ্টি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন ভারতের এক ইনফ্লুয়েন্সার। কিন্তু সেই তথ্যের অপব্যবহার করে তাঁর নামে পাঁচ শতাধিক ভুয়া ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি) অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ডেলিভারি কর্মীর আগমন ও ফোনকলের কারণে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে তাঁর পরিবার।
ঘটনাটি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদুরাই শহরের। ওই ইনফ্লুয়েন্সারের নাম বীরামণি। হাস্যরসাত্মক ভিডিও এবং মাদুরাই অঞ্চলের স্বতন্ত্র কথ্য ভাষার ব্যবহারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত তিনি।
বীরামণির স্ত্রী সুমঙ্গলি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বাড়ির মালিকও তাঁদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। পরে তাঁরা বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
দীপাবলিকে সামনে রেখে বীরামণি অনুসারীদের উদ্দেশে মিষ্টি পাঠানোর অনুরোধ জানান। এ জন্য তিনি নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একের পর এক ভুয়া সিওডি অর্ডার করা হয়। এসব অর্ডারের মধ্যে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, জোম্যাটো ও ব্লিঙ্কিটের মাধ্যমে পাঠানো পণ্যও ছিল। এমনকি দামি ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি সামগ্রীর অর্ডারও দেওয়া হয়, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য বিপুল অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।
সুমঙ্গলি জানান, ডেলিভারি কর্মীরা বারবার তাঁদের বাড়িতে আসতে থাকেন। একই সঙ্গে আসতে থাকে অসংখ্য ফোনকল। এতে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এক সাক্ষাৎকারে সুমঙ্গলি মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের ঠিকানায় যেন আর কোনো সিওডি অর্ডার দেওয়া না হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত ঠিকানা ও ফোন নম্বর শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। অন্য কেউ যেন একই ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় শুধু ইনফ্লুয়েন্সারের পরিবার নয়, ডেলিভারি কর্মীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়া অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়ে সময়, শ্রম ও জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পণ্য নিয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকেরা অর্ডার দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। কেউ কেউ পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতেও রাজি হন না। এতে ডেলিভারি কর্মীদের কাজের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ঘটনাটি ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং অনলাইন কেনাকাটার ভুয়া অর্ডারের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির বিষয়টি সামনে এনেছে।
হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com